শাড়ি পরে দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মধুমিতা

ম্যারাথন দৌড়ে স্টকপোর্টের ৪৬ বছর বয়সী শিক্ষিকা মধুমিতা জেনা শাড়ি পরে দ্রুততম সময়ে শেষ করার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙেছেন। ম্যানচেস্টারের রাজপথ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। অফিসিয়াল টাইমিং ডেটা চূড়ান্ত হওয়ার পর মধুমিতা জেনা এখন শাড়ি পরে ম্যারাথন দৌড়ানো পৃথিবীর দ্রুততম মানবী।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) ম্যানচেস্টার ম্যারাথনে মধুমিতা মাত্র ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে ২৬.২ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন। তার এ অভাবনীয় পারফরম্যান্স ২০১৮ সালে ক্রান্তি সালভির গড়া ৩ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট ০৭ সেকেন্ডের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে। মধুমিতা প্রায় ১১ মিনিট আগে দৌড় শেষ করেছেন।

ভারতের ওড়িশা থেকে আসা প‌রিবারের সন্তান মধুমিতার এ অর্জন বহু বছরের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল। এর আগে তিনি মিশরের নারীদের হিজাব পরে দৌড়ানোর অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন এবং এছাড়া, ভারতের গ্রামে “শাড়ি রান” বা শাড়ি পরে দৌড়ের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

একজন সাংবাদিককে মধুমিতা জানান, ইংল্যান্ডের মাটিতে এ রেকর্ড অর্জন করা ব্রিটিশ এশিয়ান এবং বিশ্বজুড়ে নারীদের জন্য একটি বড় বার্তা; যা প্রমাণ করে যে নিজের আত্মপরিচয় বিসর্জন না দিয়েই বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।

২৬.২ মাইল দৌড়ানো এমনিতেই কষ্টসাধ্য, তার ওপর ঐতিহ্যবাহী ছয় গজের শাড়ি পরে সেটি ছিল এক চ্যালেঞ্জ। মধুমিতা অত্যন্ত নিপুণভাবে তার শাড়ি ড্রেপিং বা পরার কৌশলে পরিবর্তন আনেন। তিনি হালকা ওজনের কাপড় বেছে নেন, যাতে দৌড়ানোর সময় তা পায়ে আটকে না যায়। তিনি একজন কর্মজীবী মা হিসেবে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন।

শিক্ষকতা এবং পারিবারিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও মধুমিতা পেরিমেনোপজ বা প্রাক-মেনোপজের শারীরিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। তিনি প্রশিক্ষণে “টেম্পো রানের”র পরিবর্তে “হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিংয়ে” জোর দেন।

মধুমিতা জানান, ভোর ৪টার দৌড়, ওয়েট ট্রেনিং এবং ক্রস-ট্রেনিং; এসবই তাকে প্রতি মাইলে ৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

ম্যানচেস্টারের এ জয় কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য ছিল না। মধুমিতা তার এই ৪২তম ম্যারাথন দৌড়কে স্টকপোর্টের হিটন স্কুলের জন্য তহবিল সংগ্রহের মাধ্যম করেছেন। সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে স্কুলে একটি “আই-গেজ” ডিভাইস কেনা হবে। এটি এমন এক উন্নত প্রযুক্তি যা সেরিব্রাল পালসির মতো গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের চোখের ইশারায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

মধুমিত বলেন, ‘‘এ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। তাদের এমন এক স্বাধীনতার স্বাদ দেবে যা আগে অকল্পনীয় ছিল।’’

তার এ সাফল্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া এবং বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। মধুমিতার এই রেকর্ড ব্রিটিশ ম্যারাথনের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৮ সালে দুবাইয়ে সদ্য মা হিসেবে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পূর্ণতা পেল।

মধুমিতা মনে করেন, ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিনিধিত্বের হার বাড়লেও স্পোর্টসওয়্যার বা পোশাকের বিষয়টি পছন্দের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, এটি যেন কোনোভাবেই বাধার কারণ না হয়।