নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে রেকর্ড গড়ে জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ডকে। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল।
তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো হাফ-সেঞ্চুরির সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামীম হোসেনের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে এই জয় আসে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ২ ওভার বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ১৮৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৭ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন হৃদয়। ইমন ১৪ বলে ২৮ এবং শামীম ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে নিউ জিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। দ্বিতীয় ওভারেই তাওহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে খালি হাতে ফিরেন নিউ জিল্যান্ড ওপেনার টিম রবিনসন।
দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে বাংলাদেশ বোলারদের উপর চড়াও হন নিউ জিল্যান্ডের আরেক ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। পাওয়ার প্লে’তে ৬১ রান করেন তারা। এরপর ২৮ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করেন ক্লিভার।
রিশাদের বলে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫১ রান করা ক্লার্ক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ বলে ৮৮ রান যোগ করেন ক্লার্ক ও ক্লিভার। এরপর মিডল অর্ডারে দ্রুত দুই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৫ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৩০ রান তুলে নিউ জিল্যান্ড।
ষষ্ঠ উইকেটে ১৭ বলে ৩২ রান যোগ করে নিউ জিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন। ১৮তম ওভারে দলকে ১৬২ রানে রেখে বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলামের শিকার হন কেলি। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৯ রান তুলেন তিনি।
ইনিংসের শেষ ১৩ বলে ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউ জিল্যান্ডকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের সংগ্রহ এনে দেন ক্লার্কসন ও নাথান স্মিথ। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করেন ক্লার্কসন।
এদিকে, বল হাতে বাংলাদেশের রিশাদ ২টি, শরিফুল-তানজিম ও মাহেদি ১টি করে উইকেট নেন।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩ বলে ৪১ রানের সূচনা করে বাংলাদেশ। ১৬ বলে ১৭ রান করে থামেন সাইফ। সাইফের বিদায়ে ক্রিজে এসে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ভালো শুরু করেন অধিনায়ক লিটন। যদিও স্পিনার ইশ সোধির শিকার হয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ১৫ বলে ২১ রানে থামেন টাইগার দলপতি।
সোধির দ্বিতীয় শিকার হন তানজিদ। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ২৫ বলে ২০ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। এতে ১১তম ওভারে ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
চাপে থাকা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরাতে নিউ জিল্যান্ড বোলারদের উপর চড়াও হন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দু’জনের ২৮ বলে গড়া ৫৭ রানের জুটিতে জয়ের লড়াইয়ে ফিরে বাংলাদেশ। ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হন ইমন। ১ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ২৮ রান করেন তিনি।
৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৩১ বলে ৪৯ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। পঞ্চম উইকেটে শামীম হোসেনকে নিয়ে ২১ বলে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১২ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন হৃদয়।
২৬ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন হৃদয়। ২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১৩ বলে অনবদ্য ৩১ রানের ইনিংস খেলার পথে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন শামীম। নিউ জিল্যান্ডের সোধি ২ উইকেট নেন।