যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধবিরতি পরবর্তী অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তেহরানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ম্যাচ খেলার দাবি জানানো হলেও, ফিফা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুক্রবার (০১ মে) কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ডেলিগেটদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে ইনফান্তিনো বলেন, “শুরুতেই আমি পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে করতে চাই যে, অবশ্যই ইরান ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে এবং অবশ্যই ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।”
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছিল যেন তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো দেশে আয়োজন করা হয়। তবে ফিফা সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং কোনো বিকল্প ভেন্যু দেওয়া হবে না।
এশীয় বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’-তে শীর্ষস্থানে থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই আসরে ইরান খেলবে গ্রুপ ‘জি’-তে।
কূটনৈতিক এক চমকপ্রদ সমীকরণ বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তবে ৩ জুলাই ডালাসে একটি নকআউট ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশ মুখোমুখি হতে পারে।
কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ঘনঘন সীমান্ত পারাপার করতে হবে। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানি ফুটবলার ও স্টাফদের জন্য ভিসা জটিলতা বা কূটনৈতিক বাধা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে সম্প্রতি কানাডায় ইরানের এক ফুটবল কর্মকর্তার প্রবেশে বাধার ঘটনা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তা সত্ত্বেও, ফিফা প্রধানের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ফুটবলকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখেই টুর্নামেন্ট সফল করতে চায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই নির্ধারিত সূচি মেনে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামে কি না।