বিশ্বকাপের শুরুর কয়েক দিন আগে ফিফার আপত্তিতে জার্সির নকশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে হাইতি।
হাইতির জার্সিতে ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ভার্তিয়ের যুদ্ধের একটি চিত্র সংযোজন করা হয়েছিল। এই যুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়েই ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং হাইতির স্বাধীনতার পথ সুগম হয়। জাতীয় পতাকার সঙ্গে সেই যুদ্ধের দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল জার্সিতে। ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফুটবলাররা সেই জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিলেন।
তবে বিশ্বকাপের আগে ফিফা বিষয়টি পর্যালোচনা করে আপত্তি তোলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বিয়ার ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সায়েতা গত বুধবার জানায়, তারা ফিফার নির্দেশনা মেনে জার্সির নকশা সংশোধন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সায়েতা জানায়, চূড়ান্ত নকশাটি মূলত হাইতির ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখা নারী-পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, তবে এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য ছিল না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পর্যালোচনার সময় ফিফা মনে করেছে যে নকশার কিছু দৃশ্যমান উপাদান তাদের সরঞ্জামবিষয়ক নীতিমালার আওতায় ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। সেই কারণেই সংস্থাটি পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়।
এই ব্যাখ্যা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিল না থাকলেও তারা ফিফার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছে।
বিশ্বকাপের ৫২ বছর পরের প্রত্যাবর্তনে আগামী শনিবার বোস্টনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে হাইতি। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৮৩তম স্থানে থাকা ক্যারিবীয় দলটি এরপর গ্রুপ ‘সি’-তে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর মুখোমুখি হবে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশটি দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতার সঙ্গে লড়াই করছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ আয়োজনও করতে পারেনি তারা। তবুও সব বাধা পেরিয়ে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে হাইতি।
দলের তারকা মিডফিল্ডার জ্যাঁ-রিকনার বেলগার্দে বলেন, “অনেকের কাছে হয়তো আমাদের দেশের নেতিবাচক একটি ছবি রয়েছে। তারা মনে করে হাইতিতে শুধু সমস্যাই সমস্যা। কিন্তু বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ দেশের মানুষ, আমার পরিবার এবং পুরো জাতির জন্য অনেক বড় একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে।”