ইনজুরির থাবা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের। পায়ের পেশির চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি তিনি; আর সেই ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে সেলেসাওরা। এবার ব্রাজিল শিবিরে এলো আরও বড় ধাক্কা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরবর্তী দুটি ম্যাচেও নেইমারকে পাচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এমনকি দলের সঙ্গে অবস্থান করলেও চলমান বিশ্বকাপে তিনি আদৌ আর মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংশয়।
বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া গণমাধ্যম ‘ইএসপিএন’ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বাকি দুটি ম্যাচে নেইমারের খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী ২০ জুন হাইতি এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় পায়ের পেশির (মাসল) চোটে পড়েন। চোট নিয়েই গত ২৭ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দলের সঙ্গে মূল অনুশীলন শুরু করতে পারেননি তিনি।
সংবাদ সংস্থা ‘এপি’ জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) নেইমারের মাঠে হালকা অনুশীলনে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাঠে না নেমে তিনি পুনর্বার মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যান। যুক্তরাষ্ট্রে দলের সাথে থাকা নেইমারের এই নতুন মেডিকেল পরীক্ষা মূলত গত সপ্তাহে করা পরীক্ষারই একটি ধারাবাহিকতা। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এখনো এই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ না করায় তার চোটের গভীরতা নিয়ে ধোঁয়াশা ও গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ব্রাজিলের স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দলের প্রধান চিকিৎসকের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বিভাগ নেইমারকে নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা করছে। গ্রুপ পর্বে তাঁকে নিয়ে কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে, নকআউট পর্ব (দ্বিতীয় রাউন্ড) শুরুর আগেই তাঁকে শতভাগ ফিট করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর স্পষ্ট অর্থ হলো—হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নেইমারকে ছাড়াই কৌশল সাজাতে হবে আনচেলত্তিকে।
এর আগে মরক্কো ম্যাচের প্রাক্কালে কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, “নেইমার যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমাদের প্রত্যাশা, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দেবে।”
তবে প্রথম ম্যাচের ধাক্কা এবং নেইমারের ইনজুরির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০ ও ২৫ জুনের ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে নতুন করে সাজাতে হচ্ছে ডাগআউটে থাকা এই ডাচ ও ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডকে।