ব্রাজিল সমর্থকদের হঠাৎ আলজেরিয়ার সমর্থক হয়ে ওঠার নেপথ্যে কী?

ফুটবল বিশ্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মাঠের লড়াই যেমন রোমাঞ্চকর, মাঠের বাইরের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও ঠিক ততটাই তীব্র। এই দুই দলের সমর্থকেরা নিজেদের দলের জয়ের চেয়ে যেন প্রতিপক্ষের পরাজয় বা খেই হারিয়ে ফেলাতেই বেশি আনন্দ খুঁজে পান। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর এক নতুন ও হাস্যরসাত্মক রূপ দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বমঞ্চের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং উত্তর আফ্রিকার পরাশক্তি আলজেরিয়া। তবে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি অনলাইন দুনিয়ায় বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল সমর্থকদের হঠাৎ ‘আলজেরিয়া’ প্রীতি। আর্জেন্টিনার পরাজয় দেখতে মুখিয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকেরা এখন কোমর বেঁধে আলজেরিয়ার পক্ষে নেমেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলজেরিয়াকে সমর্থনের পেছনে ব্রাজিল ভক্তরা হাজির করছেন নানা রকম অদ্ভুত, যৌক্তিক ও রসালো অজুহাত। ফেসবুকে কেউ কেউ ঐতিহাসিক কারণ টেনে পোস্ট করছেন যে, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরপরই আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে আলজেরিয়া বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল; তাই কৃতজ্ঞতাবশত আলজেরিয়াকে সমর্থন করা উচিত!

আবার ধর্মীয় আবেগ জড়িয়ে অনেকে বলছেন, রেকর্ডসংখ্যক ১৩টি মুসলিম দেশের একটি হিসেবে আলজেরিয়াকে সমর্থন দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। তবে সাধারণ নেটিজেনদের বুঝতে বাকি নেই যে, এসব অজুহাতের মূল লক্ষ্য একটাই, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজদের আর্জেন্টিনার হার দেখা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শুরু হতে না হতেই অনলাইনের এমন টানটান উত্তেজনা, ট্রল, কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং পারস্পরিক হাস্যরসের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে বিশ্বকাপের আসল আমেজ ও চিরচেনা ফুটবল সংস্কৃতি ফুটে উঠছে। আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকার এই পরাশক্তিকে হারিয়ে মাঠ ছাড়বে, নাকি আলজেরিয়াকে সমর্থন দিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের মুখে হাসি ফুটবে, তা কালকের মাঠের লড়াইয়েই প্রমাণিত হবে।