একটি গোলের জন্য অপেক্ষা ৯৫ মিনিট, শেষ হাসি ঘানার

এক পয়েন্ট যেন হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল পানামার। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থাকা দলটি যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই শেষ মুহূর্তে সব হিসাব পাল্টে দেয় ঘানা। অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে কালেব ইয়ারেনকির করা একমাত্র গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পানামা। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ঘানার রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ তৈরি করেছে তারা। গোলের জন্য ১১টি শটও নিয়েছে উত্তর আমেরিকার দলটি, যার চারটি ছিল লক্ষ্যভেদী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘানার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হতে হয়েছে তাদের।

অন্যদিকে ঘানা পুরো ম্যাচে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা দলটি খুব বেশি আক্রমণে না গেলেও ধৈর্য হারায়নি। প্রথমার্ধে পানামার কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি গোলরক্ষক পরিবর্তনের ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে তাদের। তবে বিকল্প গোলরক্ষক মাঠে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। সময় যত গড়িয়েছে, ততই মনে হয়েছে ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ব্র্যান্ডন থমাস আসান্তের বাড়ানো বল থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে জালে বল পাঠান কালেব ইয়ারেনকি। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার শিবির।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য পানামার হাতে সময় ছিল খুবই কম। শেষ চেষ্টাও সফল হয়নি। ফলে দাপট দেখিয়েও খালি হাতে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর শেষ মুহূর্তের আঘাতে মূল্যবান তিন পয়েন্ট তুলে নেয় ঘানা।

ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়—ডালাসের এই ম্যাচে সেই পুরোনো সত্যটাই আবারও প্রমাণ হলো। আর শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই বিশ্বকাপ মঞ্চে স্বপ্নের সূচনা করল ঘানা, আর হতাশায় ডুবল পানামা।