যেকারণে বাংলাদেশে এতো আর্জেন্টিনা ফ্যান

লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই সেই দূরত্ব যেন হারিয়ে যায়। আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে নীল-সাদা উন্মাদনা। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই সমর্থন এখন দেশের ফুটবল সংস্কৃতির এক অনন্য অংশে পরিণত হয়েছে।

১৯৮৬ সালে দিয়াগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যারাডোনার অশ্রু এবং ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ শিরোপা ওঠার পর সেই আবেগ নতুন মাত্রা পায়। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের কাছেও মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। গভীর রাতেও হাজারো ফুটবলপ্রেমী একত্র হয়ে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করেন। ভুভুজেলা, পতাকা আর সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

এই সমর্থন শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। ২০২২ বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সমর্থকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ঢাকায় পুনরায় দূতাবাস চালু করে আর্জেন্টিনা। দেশটির রাষ্ট্রদূতও বিভিন্ন পাবলিক স্ক্রিনিংয়ে সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।

বাংলাদেশের অনেক পরিবারেই বিশ্বকাপ ঘিরে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। অনেকেই প্রিয় ফুটবলারের নামে পোষা প্রাণীর নাম রাখছেন, যা আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আবেগেরই প্রতিফলন।

তবে এই বিপুল ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেও দেশের ফুটবল নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের। তাদের মতে, ফুটবলের প্রতি মানুষের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আধুনিক একাডেমি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের ফুটবলও একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।