বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সামনে কঠিন পরীক্ষা, শক্তিশালী নরওয়ে নিয়ে শঙ্কা

চলতি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নরওয়ে। শুধু যে ইতিহাস সেলেসাওদের বিপক্ষে কথা বলছে তা নয়, ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল এই দলটির বর্তমান স্কোয়াডও কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

ফুটবল ইতিহাসে নরওয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে হেরেছে এবং বাকি দুটি ড্র করেছে। অর্থাৎ, নরওয়েকে এখনও একবারও হারাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই পরিসংখ্যানের বেশির ভাগই অতীতের। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে।

তাই কেবল পুরোনো রেকর্ডই নয়, বর্তমান নরওয়ে দলই ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর দেশটির ফুটবলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর তারা পেয়েছে ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান একটি প্রজন্ম, যারা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এর বিশ্লেষক কার্লোস এদুয়ার্দোর মতে, বর্তমান নরওয়ে দল ১৯৯০ এর দশকের সেই বিখ্যাত নরওয়ের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। কারণ, এখন তাদের দলে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের একাধিক তারকা, যারা ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দিতে সক্ষম।

এই দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র অবশ্যই আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত গোল করার ক্ষমতায় তিনি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ১৪ ম্যাচে করেছেন ২৬ গোল। মাত্র ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোল করে গড়েছেন দেশের দ্রুততম গোলদাতার রেকর্ড। চলতি বিশ্বকাপেও পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন তিনি।

হালান্ডের পাশাপাশি নরওয়ের আক্রমণভাগকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছেন মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, আন্তোনিও নুসা অস্কার বব। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং শারীরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে এই আক্রমণভাগকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, দুই দলের অতীতের লড়াইয়ের বেশির ভাগই হয়েছিল নরওয়ের মাঠে বা ইউরোপের অনুকূল আবহাওয়ায়। এবার ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে তীব্র গরমও দুই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের সামনে শুধু একটি অজেয় প্রতিপক্ষই নয়, বরং এমন এক নরওয়ে দাঁড়িয়ে আছে যারা প্রায় তিন দশক পর বিশ্বকাপে ফিরে বাছাইপর্বে আধিপত্য দেখিয়েছে, প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচ জিতেছে এবং ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা তারকাদের নিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি গড়ে তুলেছে।