২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগুনের লাল কার্ড এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন বালোগুন। কিন্তু ৬৪ মিনিটে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ৬২ মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে পেছন থেকে চাপ দিতে গিয়ে তার ডান পায়ের গোড়ালির পেছনের অংশে বুটের স্টাড লেগে যায়। ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে ফাউলই দেননি। পরে ভিএআর-এর পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
এই সিদ্ধান্তের পরই সামনে এসেছে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের একটি ঘটনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসিও প্রায় একই ধরনের ট্যাকলে প্রতিপক্ষের পায়ের পেছনে স্টাড লাগিয়েছিলেন। তখন আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা লাল কার্ডের দাবি তুললেও পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক শুধু ফাউল দিয়েছিলেন; মেসিকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি এবং ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি।
একই ধরনের অপরাধে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফুটবল বিশ্বে।
বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দ বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সবাই চায় নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ হোক। মেসির ট্যাকলে কোনো শাস্তি হলো না, অথচ বালোগুনের ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলো।”
ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথের মতে, রিপ্লে স্থিরচিত্রে দেখলে ঘটনাটি লাল কার্ডের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে দেখলে সিদ্ধান্তটি অতিরিক্ত কঠোর বলেই মনে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসিও একই মত প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “এখন ম্যাচের বদলে রেফারিং নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও বালোগুনের লাল কার্ডের বিরোধিতা করেন। তার দাবি, “এটা কখনোই লাল কার্ড পাওয়ার মতো ঘটনা নয়। প্রতিপক্ষের পায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য বালোগুনের ছিল না।”
মেসির ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানা হলে পচেত্তিনোর মন্তব্য ছিল, “আমার মতে, দুটি ঘটনাই সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো নয়।”
এই লাল কার্ডের কারণে বালোগুন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না।