সেই তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করলো আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন ঘানার এক আলোচিত তান্ত্রিক। নানা কাওয়াকু বোনসাম নামের এই ওঝা দাবি করেছিলেন, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটবে পুচকে কেপ ভার্দে। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই তান্ত্রিকের ভবিষ্যৎ বাণীকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে ৩–২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তান্ত্রিকের অলৌকিক বিদ্যার ভয়কে উড়িয়ে দিয়ে শেষ হাসি হেসেছে আলবিসেলেস্তেরা।

চলতি বিশ্বকাপে ঘানার এই তান্ত্রিকের লাইমলাইটে আসা এবারই প্রথম ছিল না। এর আগে গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচের আগে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর ‘অভিশাপ’ বা কালো জাদু করার দাবি করে ব্যাপক আলোচনা কুড়িয়েছিলেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে, ঘানার বিপক্ষে সেই ড্র হওয়া ম্যাচে হ্যারি কেইন কোনো গোল করতে পারেননি। এরপরের ম্যাচে পানামার বিপক্ষে কেইন গোল পাওয়ায় এই তান্ত্রিকের প্রতি অনেকেরই মনোযোগ আকর্ষণ হয়।

হ্যারি কেইনের পর বোনসামের নতুন লক্ষ্য ছিল লিওনেল মেসির দল। শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও এই ওঝা ঘটা করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা হেরে বিদায় নেবে। তার এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমী ও নেটিজেনদের মাঝে রাতারাতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তান্ত্রিকের এমন অবাস্তব ভবিষ্যদ্বাণীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ মাঠের পারফরম্যান্সে জবাব দিয়েছে আর্জেন্টিনা। মায়ামির মাঠে ম্যাচটি অবশ্য সহজ ছিল না। নবাগত কেপ ভার্দে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে ২–২ সমতায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার একটা শঙ্কা তখন হয়তো অনেকের মনে উঁকি দিচ্ছিল।

তবে অতিরিক্ত সময়ের চরম উত্তেজনার পর শেষ পর্যন্ত একটি আত্মঘাতী গোলের সহায়তায় ৩–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। তান্ত্রিকের তথাকথিত কালো জাদু বা অলৌকিক বিদ্যার দাবিকে মাঠের ফুটবলেই পরাস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করার এই রাতে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের লড়াকু রক্ষণ ভেঙে দারুণ একটি গোল করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ৭ম গোল পূরণ করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখলেন এলএমটেন। একই সাথে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে ন্যূনতম ৭টি গোল, বিশ্বকাপে ২০টি গোল এবং বিশ্বকাপের সব কটি রাউন্ডেই গোল করার অনন্য এক বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন তিনি।