১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বজয় এনে দিয়েছিলেন ফুটবলের রাজা পেলে। ঐতিহাসিক সেই ফাইনালে পেলের গায়ে থাকা জার্সিটি নিউইয়র্কের এক নিলামে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ কোটি টাকারও বেশি।
পাঁচজন সংগ্রাহকের মধ্যে মোট ১০ বার দর কষাকষির পর শেষ পর্যন্ত এই রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির এই ফুটবল স্মারকটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ফুটবল ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া জার্সি আছে কেবল একটি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার পরা সেই বিখ্যাত জার্সিটি ২০২২ সালে ৯.৩ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ কোটি টাকার বেশি) বিক্রি হয়েছিল।
আজকের এই বিক্রির মাধ্যমে নিজের সব ফুটবল স্মারকের মধ্যে পেলের এই জার্সিটিই সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ার রেকর্ড গড়লো। ২০০৪ সালের এক নিলামে এই একই জার্সিটি বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার কিছু বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছিল।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবি’স-এর স্পোর্টস স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ব্রেন্ডন হকস বলেন, “আজকের এই নিলাম সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের দীর্ঘস্থায়ী লিগ্যাসির শক্তিশালী নজির। এই জার্সিটি কেবল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের এক স্থায়ী স্মারকই নয়, বরং এটি মূলত সেই মুহূর্তটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যা পেলেকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের এক আইকনে পরিণত করেছিল।”
একই নিলামে ফুটবল ইতিহাসের আরও কয়েকটি স্মারকও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি দামে।
এছাড়া, ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার ৬-১ গোলের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে লিওনেল মেসির পরা জার্সি বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি দামে।
আর ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ডেভিড বেকহামের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচের জার্সি বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৩ লাখ টাকার কিছু বেশি দামে।