১৩৯ বছরে যা পারেনি কেউ, এবার কি সেটাই করে দেখাবে বাংলাদেশ?

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই ম্যাচ থেকে ভালো ফল বের করে আরও একটি নতুন কীর্তি গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে টাইগাররা।

মারারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে চার দিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে সফরকারীরা। দ্বিতীয় টেস্টে জয় কিংবা ড্র করতে পারলে মিলবে আরও বড় এক অর্জন যেকোনো সংস্করণের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত, এই ম্যাচ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট রেকর্ড বরাবরই উজ্জ্বল। ১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারার পর নিজেদের মাটিতে একাধিক ম্যাচের কোনো টেস্ট সিরিজে আর হোয়াইটওয়াশ হয়নি তারা। ফলে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে গত ১৩৯ বছরে যা ঘটেনি, তা করে দেখানোর।

ম্যাকাই টেস্টে হার এড়াতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের বিপক্ষে এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়। আর জয় পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০০৯) ও পাকিস্তানের (২০২৪) পর বিদেশের মাটিতে টানা দুটি টেস্ট জয়ের মাত্র তৃতীয় নজির গড়বে টাইগাররা।

তবে এই ম্যাচ শান্তর দলের জন্য আরও কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ডারউইনে হারের পর নিজেদের গৌরব ফিরে পেতে মরিয়া থাকবে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টের হারকে নিছক দুর্ঘটনা প্রমাণ করতে মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে তারা।

এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ম্যাকাইয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানান, খেলোয়াড়দের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া এবার আরও শক্তভাবে চড়াও হবে, তাই দলকে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে বা আরও উন্নত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, গত তিন দিনে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন এবং শনিবার সকালে সঠিক মনোভাব নিয়েই ম্যাচ শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।