লিওনেল মেসির জন্য যেন রাতটা ছিল বিশেষ। ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পাশাপাশি দলকে এনে দিয়েছেন ক্যাম্পিওনেস কাপের শিরোপা। ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই ট্রফি জিতেছে মায়ামি।
মেসির গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় মায়ামি। ২৪ মিনিটে ডান দিক থেকে লুইস সুয়ারেজের বাড়ানো বলে মাথা ছুঁইয়ে জালে পাঠান তিনি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শট নয়, মাইলফলকের গোলটি এসেছে মেসির হেড থেকেই। এরপর ম্যাচের ৮১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন কাসেমিরো। তাতেই মেসির আরেকটি শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়।
ক্যাম্পিওনেস কাপের শিরোপাটি মায়ামির জন্যও বিশেষ। মেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি লড়াইয়ে এবারই প্রথম ট্রফি জিতলো ক্লাবটি। চলতি বছরে এটিই মেসির প্রথম শিরোপা। মায়ামির নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেসেরও অভিষেক হলো ট্রফি দিয়ে।
ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র ১১৫ ম্যাচেই ১০০ গোলের কীর্তি গড়েছেন মেসি। এটাই কোনো ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে মেসির দ্রুততম ১০০ গোল। বার্সেলোনার হয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার লেগেছিল ১৮৮ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১০০ গোল করতে খেলেছেন ১৭৪ ম্যাচ। সেখানে মায়ামির হয়ে সময় লেগেছে মাত্র ১১৫ ম্যাচ।
২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর দলটির হয়ে মেসির প্রথম গোলটিও এসেছিল ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত মেজর লিগ সকারে মায়ামির হয়ে তার গোল ৭৬টি। লিগস কাপে ১৪, কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ৮ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে করেছেন ১ গোল।
মায়ামির হয়ে মেসির শিরোপার সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৩ সালে লিগস কাপ জয়ের পর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড জেতে দলটি। সেই মৌসুমে এমএলএসে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ডও গড়ে দলটি। এরপর ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জয়েও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মেসি।
ক্লাব ও আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ৯২৯। চলতি এমএলএস মৌসুমে ২২ ম্যাচে ১৯ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। তবে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে মায়ামি এখন ন্যাশভিলের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে। ২৫ ম্যাচে ন্যাশভিলের পয়েন্ট ৫৪, মায়ামির ৪৫।
উল্লেখ্য, মায়ামির এই ট্রফি জয়ের আগে টানা তিন আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মেক্সিকোর ক্লাবগুলো। তবে মেক্সিকান জায়ান্ট ক্রুজ আজুলের জন্য এই ট্রফি অধরাই রয়ে গেল; ২০২১ সালের ফাইনালেও তারা একই ভাগ্য বরণ করেছিল।