মাহমুদউল্লাহ অধ্যায় কি শেষ হলো?

আসন্ন এশিয়া কাপ ক্রিকেট আসরের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১২ আগস্ট) ঘোষিত দলে নেই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এনিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের প্রধান মিনহাজুল আবেদিনের মতে, নির্বাচকরা মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের নেতৃত্বে টিম ম্যানেজমেন্টের মতবিরোধের কারণে ৩৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে দলের বাইরে রাখা হয়েছে।

শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে মিনহাজুল বলেন, মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদের একটি পরিকল্পনা দিয়েছে। যেখানে তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের রোডম্যাপ জানিয়েছেন। ফলে এসব আলোচনা বিবেচনা করেই মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বলেন, “আমরা অবশ্যই মনে করি ম্যানেজমেন্ট যে পরিকল্পনা করেছে তা ভালো। একইসঙ্গে প্রধান কোচের দল পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সব দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা অধিনায়ক [সাকিব আল হাসান] এর সাথেও আলোচনা করেছি এবং তারপর সিদ্ধান্তে এসেছি।”

এ বছরের মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। যেখানে তিনি তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিকে যথাক্রমে ৩১, ৩২ ও আট রান করেছিলেন।

তারপর থেকেই জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে মাহমুদউল্লাহর স্থানটি কিছুটা নড়বড়ে।

নির্বাচক প্যানেল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পরের সিরিজে মাহমুদউল্লাহকে সরিয়ে দেয়। যদিও বিতর্ক এড়াতে নির্বাচকরা বলেছিলেন, এই ক্রিকেটারকে “বিশ্রাম” দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদউল্লাহ এসবিএনসিএস-এ প্রশিক্ষণ সেশন নিয়ে ১৯ জুলাই প্রাথমিকভাবে দেশে ফিরে আসেন।

এরপর তিনি ফিটনেস পরীক্ষায় অংশ নেন ও প্রাথমিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ শিবিরেও ছিলেন।

তবে তার প্রচেষ্টা হাথুরুসিংহকে খুশি করতে পারেনি।

এদিকে আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩-এ মাহমুদউল্লাহ দলে জায়গা পাবেন কি না তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। 

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের মতে, মাহমুদউল্লাহর জন্য দরজা এখনও খোলা রয়েছে। কারণ ঘোষিত স্কোয়াড এশিয়া কাপের জন্য, বিশ্বকাপের নয়।

তিনি বলেন, “এটি বিশ্বকাপের দল নয়। এশিয়া কাপের জন্য এই স্কোয়াড। আসুন এখন এই মুহূর্তে এই দলের কথা ভাবি। আমরা ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করতে চাই।”

মিনহাজুলের বক্তব্যে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, টিম ম্যানেজমেন্টের মতামত নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে।

“টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদের একটি পরিকল্পনা দিয়েছে। তারা একজন অতিরিক্ত স্পিনার, অতিরিক্ত পেসার এবং সাত-আট নম্বরে কে খেলবে। এ নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। তাই সেসব আলোচনার ভিত্তিতে এশিয়া কাপের স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে,” বলেন মিনহাজুল।