১৬ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। তবে অতিক্রম করতে হয়েছিল বাছাইপর্বের বাধা। এই বিশ্বকাপে খেলা দলগুলোর মধ্যে কেবল তাদেরই টেস্ট মর্যাদা নেই। তাই একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে তাদের খুব একটা গা করেননি কেউই।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ধর্মশালায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৮ রানে হারিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় নেদারল্যান্ডস। বৃষ্টির কারণে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান সংগ্রহ করে নেদারল্যান্ডস। জবাবে ৪২.৫ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে যায় প্রোটিয়ারা।
ব্যাটে-বলে দাপুটেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকানদের হারিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না নেদারল্যান্ডস। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের লিগপর্ব শেষে সেমিফাইনাল খেলার ইচ্ছা তাদের। এমনকি যেকোনো দলকে ডাচরা হারিয়ে দিতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস।
নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ আফ্রিকা বধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচসেরা হন এডওয়ার্ডস। ৬৯ বলে দশ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৭৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ডাচ উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক। ১৪০ রানে ৭ উইকেট হারিয়েও তার ব্যাটেই চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় কমলা শিবির।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর এডওয়ার্ডস বলেন, “প্রতিটি ম্যাচেই আমরা জেতার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে জয়ের জন্য চেষ্টা করি। আমরা নিজেদের সেরাটা দিই। আমার মনে হয় নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিলে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি।”
এবারের আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ম্যাচ জিতেছিল ২০০৩ ও ২০০৭ সালের আসরে। ২০০৩ সালে আফ্রিকা মহাদেশে আয়োজিত প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র আসরে তারা নামিবিয়াকে পরাজিত করেছিল। পরের আসরে স্কটল্যান্ডকেও হারিয়েছিল ডাচরা।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবারই প্রথম হারালেও এটা নেদারল্যান্ডসের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা না। গত বছর টি-টোয়েন্টি সংস্করণের বিশ্বকাপেও প্রোটিয়াদের হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছিল তারা।
এডওয়ার্ডস বলেন, “বাছাইপর্বের পরই আমরা এ টুর্নামেন্টের করণীয় ঠিক করেছি। দক্ষিণ আফ্রিকা স্পষ্টই একটি শক্তিশালী দল এবং তারা সেই সেমিফাইনালের দাবিদার। আমরা যদি শেষ চারে থাকতে চাই, তাহলে আমাদের এমন দলগুলোকে হারাতে হবে।”
ডাচ অধিনায়ক আরও বলেন, “আমরা এখানে শুধু মজা করতে এবং উপভোগ করতে আসিনি। আমরা এখানে ক্রিকেট খেলা জিততে এবং নিজেদের পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে এসেছি।”