সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশে দলের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরেসিংহের। বিশ্বকাপে দলের বাজে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি হাথুরেসিংহের দাপটে ড্রেসিংরুমে অবস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগও উঠেছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বেশিরভাগ পরিচালক জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ থেকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অপসারণ চান।
বিশ্বকাপ সুপার লিগে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে ওঠা বাংলাদেশ ৫০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ভারতের বিমান ধরেছিল।
তবে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন দল হাথুরুসিংহের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের ফলে ২০০৩ সালের পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাজে ফলাফল বয়ে আনে।
১০ দলের বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অষ্টম। আরেকটু হলেই হাতছাড়া হয়ে যেত ২০২৫ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে একবারেই নীরবতা বজায় রেখেছে বিসিবি কর্তারা, বিশেষ করে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে কথা বলার জন্য নাজমুল হাসানের বেশ পরিচিতি রয়েছে।
হাথুরুসিংহেকে প্রধান কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনার পেছনে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন এবং অধিনায়ক হিসেবে সাকিবই ছিল তার পছন্দের শীর্ষে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিসিবি’র ৮০% শতাংশ পরিচালক হাথুরুসিংহকে দায়িত্বে না রাখার পক্ষে। তবে এটাও বুঝতে হবে যে, বোর্ড তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিকল্প কোচ খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এছাড়াও বোর্ডকে হাথুরুসিংহের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির কাগজপত্রও দেখতে হবে। হাথুরুসিংহে নিয়োগ পাওয়ার এক বছরও হয়নি। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হব।”
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা’ই হোক না কেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে হাথুরুসিংহের "অগাধ ক্ষমতা"র বিপক্ষে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ, এবং তারা অবিলম্বে হাথুরেসিংহের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পক্ষে।
বিশ্বকাপে দলের টপ-অর্ডারে ব্যাকআপ ব্যাটার না রাখা এবং ব্যাটিং লাইন আপে নিয়মিত পরিবর্তনের জন্য এই অংশটি হাথুরুসিংহের দায় দেখছেন।
স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অন্যান্য কোচদের কাজে হাথুরুসিংহের হস্তক্ষেপ এবং দলের জুনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার আপত্তিকর আচরণও বোর্ডের অনেককে বিরক্ত করেছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে হাথুরুসিংহ এবং অন্যান্য কোচিং স্টাফদের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট ছিল। যা শুধু টিম হোটেলেই নয়, দৃশ্যমান ছিল মাঠেও।
এমনও উদাহরণ রয়েছে, হাথুরুসিংহের হস্তক্ষেপ এড়াতে অনুশীলনের সময় অন্য কোচিং স্টাফরা খেলোয়াড়দের মাঠের এক কোণে নিয়ে টিপস দিয়েছেন।
বিশ্বকাপের বাংলাদেশের টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদের প্রতিবেদনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক এবং বিসিবির পরিচালকদের একজন খালেদ মাহমুদ এর আগেও জানান দিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপের ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত অবশ্যই হবে।
বিশ্বকাপ চলার সময় মিডিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতার দলে “সক্রিয় ভূমিকা" রাখতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় হতাশা ফুটে উঠেছিল। এমনকি তিনি এটিও বলেছিলেন যে, এমনটা হবে জানলে তিনি দলের সঙ্গে আসতেন না।
খালেদ মাহমুদ আগামী বোর্ড মিটিংয়ে হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবেন সেটিও খুব সহজেই অনুমান করা যায়।