ভুল স্বীকার করে ভালোভাবে ফেরার প্রতিশ্রুতি শান্তর

হারের মঞ্চ তৈরি হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের তৃতীয় দিনেই। অপেক্ষা ছিল শুধু সময়ের। চতুর্থ দিন শ্রীলঙ্কার সেই অপেক্ষা মাত্র তিন ঘণ্টা দীর্ঘায়িত করতে পারল বাংলাদেশ। সোমবার (২৫ মার্চ) সিলেটে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় সেশনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮২ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। যার ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশের এই ম্যাচে বাংলাদেশে হেরেছে ৩২৮ রানের বড় ব্যবধানে।

এমন হারের পর নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দিয়েছেন নিজের আউটের ব্যাখ্যাও।

নিজের আউট নিয়ে শান্ত বলেন, ‘‘আমার আউটটা নিয়ে যেটা বলতে পারবো, ভুল বল বেছে নিয়েছিলাম। উইকেট যেমন ছিল, নতুন বলে এ ধরনের বল টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমার মনে হয় মিস জাজমেন্ট। পরের ম্যাচে ভালো করার জন্য সবাই চিন্তা করবে এবং ভালোভাবে কামব্যাক করবে।’’

অপরদিকে লিটনের আউট নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘‘লিটনের আউটটা নিয়ে আসলে আমি বলতে পারবো না। লিটনই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবে। তবে হ্যাঁ, সাধারণত টেস্ট ক্রিকেটে এ ধরনের আউট খুব একটা দেখা যায় না।’’

যদিও সতীর্থের পক্ষ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘শেষ ওয়ানডেতে যখন লিটন ছিল না, আমরা ওর ব্রেকের কথাই চিন্তা করেছি। কারণ ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমাদের দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার এখন পর্যন্ত। হ্যাঁ, কয়েকটা ইনিংস খারাপ গেছে। আমাদের উচিত এ সময়টায় তার পাশে থাকা। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে খেলোয়াড়, সবাই ওকে সাপোর্ট করছে। সে নিজেও এটা নিয়ে চিন্তা করছে। আমি খুবই আশাবাদী পরের ম্যাচে লিটন খুব ভালো করতে পারবে।’’

শান্ত আরও যোগ করে বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট শট নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যাটিং কোচ আছে। কেন খেলেছেন কী কারণে খেলেছেন এটা নিয়ে ব্যাটিং কোচ তার সঙ্গে কাজ করবে। এটা আমার কাজ না। এ আউট নিয়ে খুব বেশি কথা বলার দরকার, সেটাও আমি মনে করছি না। ঠিকমতো হলে এটা নিয়ে এত কথা হতো না। আউট তো আউটই। তবে এ ধরনের আউট যেন না হয়, ব্যাটিং কোচ বা লিটন আরও ভালোভাবে পরিকল্পনা করবে।’’

সিলেট টেস্টে আগের দিনই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ৫১১ রানের অসম্ভব লক্ষ্যে বাংলাদেশকে গড়তে হতো রেকর্ড। যেখানে টাইগারদের ২১৫ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। তাই চতুর্থ দিন দেখার ছিল প্রতিরোধটা কতক্ষণ স্থায়ী হয়। সেই প্রতিরোধটা দেখা গেলো লোয়ার অর্ডারে। যার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকলেন মুমিনুল। তাইজুলের বিদায়ের পর সপ্তম উইকেটে মিরাজ ও অষ্টম উইকেটে শরিফুলকে নিয়ে জুটি গড়েছিলেন। পুরো ইনিংসে ৬৬ ও ৪৭ রানের এই দুটি জুটিতেই লড়াই করেছে বাংলাদেশের। মিরাজ, শরিফুল ফিরলেও মুমিনুল একা আরও কিছুক্ষণ টেনে নিয়েছেন। অভিজ্ঞ ব্যাটার ৮৭ রানে অপরাজিত থাকলেও নাহিদ রানা বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারলেন না। এই পেসারের উইকেট পড়তেই ১৮২ রানে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে শুরু হবে।