অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচ শুরুর সময়ই ধারাভাষ্য থেকে বারবার একটি কথাই বলা হচ্ছিল, আজকের খেলাটা হবে একটু অন্যরকম। কারণ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচগুলোর মতো “লোউ স্কোরিং” ম্যাচ এটি হওয়ার কথা নয়; খেলা হচ্ছিল ব্যাটিং সহায়ক পিচে।
তবে ২২ গজে থাকা বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স দেখে আবার তার উল্টোটাও মনে হয়েছে। বলতে গেলে তাওহিদ হৃদয় ছাড়া নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি কেউ।
তবে সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন এবং ভুগিয়েছেনও লিটন দাস। এ ধরনের উইকেটে তার মন্থর ব্যাটিং পুরো দলকেই যেন পিছিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ যখন নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪০ রানের সংগ্রহ গড়েছে; তখন আক্ষেপ আর ২০ থেকে ৩০ রানের। উদ্বোধনী জুটিতে নামা লিটন দাস খেলেছেন ২৫টি বল; রান করেছেন ১৬টি। তার খেলা ২৫টি বলের মধ্যে ১৬টিতেই কোনো রান আসেনি। দ্বিতীয় ওভারে বলে আসা জশ হ্যাজলউডের ওভারটিতে একটি রানও নিতে পারেননি লিটন।
ফলাফল- পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৯। এ ধরনের উইকেটে যেটি কোনোভাবেই মানানসই নয়। জবাবে নেমে সেই উইকেটেই অস্ট্রেলিয়া ৬ ওভারে তুলেছে ৫৯ রান।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠেও ছিল পাওয়ার প্লে এবং শেষ ওভারগুলোতে রান না পাওয়ার আক্ষেপ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে রান তোলা কঠিন ছিল। অল্প পুঁজিতেই প্রতিপক্ষকে চোখ রাঙিয়েছে যে কোনো দল। তবে সুপার এইটে শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচই হয়েছে ভালো পিচে। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি বাদ দিলে বাকি ৩ ম্যাচেই আগে ব্যাট করা দল ন্যূনতম ১৮০ করে তুলেছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই হয়েছে শুধু ব্যতিক্রম।
শুক্রবারের (২১ জুন) অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের এই ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় যদিও কারো একার নয়; তবে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ সেই লিটনের নামটিই বারবার আসছে।
লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হয়ে লিটন যখন সাজঘরে ফেরেন তখন তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৬৪। অন্যদিকে, ৯ নম্বরে নামা পেসার তাসকিন আহমেদ ৭ বলে ১৮৫.৭১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৩ রান; লিটনের চেয়ে তার স্ট্রাইক রেট প্রায় তিনগুণ বেশি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চলিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন ঠিকই, তবে সেটিও প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি।
আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে যে পিচে একরকম রানের বন্যা বয়ে গেল, সেখানেই ভুগলেন লিটন, শান্ত, সাকিবরা। তবে ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা খেলেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। হেসে-খেলেই লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছিল অজিরা। ১১.২ ওভারেই তারা তুলেছিল ১০০ রান। বৃষ্টির বাধায় শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ২৮ রানে জয়ী হয় অস্ট্রেলিয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর সময়ের চেয়ে টিম টাইগার্সের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন বেশি। যেভাবে টুর্নামেন্টের আগে নবাগত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ সিরিজ হেরেছিল, সেরকম বিবর্ণ বাংলাদেশকে আর মূল আসরে দেখা যায়নি। তবে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ছন্দপতন হলেও সুপার এইট থেকে ভালো কিছুই আনবে বাংলাদেশ- সমর্থকদের প্রত্যাশা এমনই।
সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে বাংলাদেশকে শেষ দুটি ম্যাচ জিততে হবে। শনিবার অ্যান্টিগাতেই টাইগারদের প্রতিপক্ষ ভারত। আর মঙ্গলবার শেষ ম্যাচটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
আজকের ম্যাচটি বাদে গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচেই উজ্জ্বল দেখা গেছে বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জিততে জিততে হেরেছে তারা। এই ম্যাচটি বাদ দিলে তিন জয়ে এখনও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। তবে পরের দুই ম্যাচে ভালো করতে প্রয়োজন ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় ইনিংস।