গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা বিরোধী আন্দোলন একপর্যায়ে রুপ নেয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। গত সেপ্টেম্বরে কানপুর টেস্টের পর বাংলাদেশের হয়ে আর খেলতেও পারেননি তিনি। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, এটাই হয়তো সাকিবের ক্যারিয়ারের ইতি। কিন্তু সাকিবের ভাবনা অন্যরকম। তিনি এখনো লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখেন। দেশের হয়ে খেলেই অবসর নিতে চান ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার।
সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন বুঝলাম এত চাপ নিয়ে খেলতে পারব না, তখনই মনে হয়েছে শেষ। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমি আমার দেশের হয়ে খেলতে চাই না- আমি এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাই, আর এই ইচ্ছা সব সময়ই আমার থাকবে। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি।”
একপর্যায়ে সাকিব আল হাসান আরও বলেন, “হ্যাঁ, আমি সংসদ সদস্য ছিলাম কিন্তু এখন তো আর নেই এবং কোনো দলে কোনো রাজনৈতিক পদও নেই। যে কাজটি আমি ১৮ থেকে ২০ বছর (বাংলাদেশের হয়ে খেলা) ধরে করছি, সেটা থামিয়ে দেওয়াটা কি আপত্তিকর নয়? আমি এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলে ভালোভাবে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। যদি সুযোগ থাকে আমি এক সিরিজ, দুই সিরিজ নাকি আরও এক বছর খেলব, সেই পরিকল্পনাই করতে চাই।’’
সাকিব এরপর স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘‘দেশের হয়ে খেলাই আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা এবং সে জন্য আমি নিজের সবকিছু দিয়ে দিতে রাজি। এটাই আমার স্বপ্ন এবং সেটা পূরণ করতে আমি সবকিছুই করছি- ক্রীড়া উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলছি।”
১৯ বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যুক্ত থাকা সাকিব আরও বলেন, “গত ১৮ বছর নাকি শেষ ৬ মাস, কোনটা দেখে আমাকে বিচার করবেন, তা আপনাদের ইচ্ছা।’’
বাংলাদেশের হয়ে খেলা প্রসঙ্গে আরও বলেন, “‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা আমার প্রাপ্য এবং বেশিরভাগ মানুষই চায় আমি দেশের হয়ে খেলে অবসর নিই এবং আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাই। আমার বিশ্বাস, আমি আরও এক-দুই বছর খেলতে পারব।”