নির্বাচন করলে আবার জিতবেন, বিশ্বাস সাকিবের

গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা বিরোধী আন্দোলন একপর্যায়ে রুপ নেয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। গত সেপ্টেম্বরে কানপুর টেস্টের পর বাংলাদেশের হয়ে আর খেলতেও পারেননি তিনি। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, এটাই হয়তো সাকিবের ক্যারিয়ারের ইতি। কিন্তু সাকিবের ভাবনা অন্যরকম। তিনি এখনো লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখেন। দেশের হয়ে খেলেই অবসর নিতে চান ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার।

মাত্র ৬ মাসের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল তার। আর এতেই তার সবকিছুই যেন ওলট-পালট হয়ে গেল। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘‘দেখুন, ব্যাপারটা হলো, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া যদি আমার জন্য ভুল হয়ে থাকে, তবে ভবিষ্যতে যে কেউ রাজনীতিতে যোগ দিলে সেটাও ভুল হবে। ডাক্তার, ব্যারিস্টার, ব্যবসায়ী- যেই হোক, কেউ রাজনীতিতে যোগ দিলে ভুল হতেই পারে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়া যেকোনো নাগরিকের অধিকার এবং যে কেউ তা করতে পারে। মানুষ আপনাকে ভোট দেবে কি দেবে না, সেটা তাদের নিজের ব্যাপার। আমি যখন যোগ দিয়েছিলাম, তখন আমি সঠিক ছিলাম বলে মনে করি এবং আমি এখনো বিশ্বাস করি যে আমি তখন সঠিক ছিলাম। কারণ রাজনীতিতে আসার পেছনে আমার উদ্দেশ্য ছিল মাগুরার মানুষের জন্য কাজ করা। আমি অনুভব করেছি, আমি তাদের জন্য কিছু করতে পারি। আমি এটাও অনুভব করেছি যে মাগুরার মানুষ আমাকে চেয়েছিল।’’

নির্বাচনে জয় লাভ করা প্রসঙ্গে সাকিব আরও বলেছেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে এবং আমি মনে করি না যে আমি যদি আবার দাঁড়াই, তবে অন্য কেউ সেখানে জিততে পারবে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই আমি যা করেছি, তাতে আমি কোনো ভুল দেখি না। যখন আমি নির্বাচনে দাঁড়াই, তখন আমি মাগুরার মানুষের সেবা করার সুযোগ চেয়েছিলাম। মানুষ আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমি তাদের যেভাবে সেবা করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে পারিনি। এটা আমি মেনে নিয়েছি।’’

মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতিতেই আসতে হবে কেন- সেটার ব্যাখায় সাকিব বলেন, ‘‘আমি সবসময় মনে করি, যদি কেউ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে চায়, তবে তাকে সিস্টেমের ভেতরে আসতে হবে। কারণ, সিস্টেমের অংশ না হয়ে আপনি সেটাকে কীভাবে বদলাবেন? যেসব মানুষ এখন দেশ চালাচ্ছে, তারা যদি সিস্টেমের বাইরে থাকত, তাহলে তারা যে পরিবর্তনগুলো চেয়েছিল তা কি আনতে পারত?”

আবারও নির্বাচনে দাঁড়ালে তিনিই জিতবেন- এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘দেখুন, অনেকে বলতে পারে আমার রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। কিন্তু যারা এসব বলছে, তাদের বেশিরভাগই আমার এলাকার ভোটার নয়। মাগুরার ভোটাররা ভিন্নভাবে চিন্তা করে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, যদি আবার নির্বাচনে অংশ নিই, তবে মাগুরার মানুষ আমাকেই আবার ভোট দেবে। কারণ, তারা বিশ্বাস করে আমি তাদের জন্য কিছু করতে পারব। এটা আমার বিশ্বাস এবং আমি এ জন্যই রাজনীতিতে এসেছিলাম।’’

ছয় মাসের রাজনৈতিক জীবন কেমন কেটেছিল সে বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘‘আমি রাজনীতিতে মাত্র ছয় মাস ছিলাম। নির্বাচনের পর আমার মনে হয়, আমি তিন দিনের জন্য মাগুরা গিয়েছিলাম। আমি চার-পাঁচ মাস ধরে ক্রিকেট খেলেছি এবং একই পরিমাণ সময় দেশের বাইরে ছিলাম। ফলে আমি রাজনীতিতে ঠিকঠাক জড়িত হওয়ার সময়টাই–বা কোথায় পেলাম!’’