ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা আইপিএল। তবে বিশ্বক্রিকেটের সমকালীন সবচেয়ে বড় তারকা বিরাট কোহলির কাছে আইপিএল শিরোপা যেন হয়েছিল এক দুঃস্বপ্নের নাম। অবশেষে ১৮ বছরের সেই আক্ষেপ ঘুচালেন কোহলি।
২০০৮ সালে আইপিএলের জন্মলগ্ন থেকেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলে আসছেন কোহলি। আগের তিনবার ফাইনালে হৃদয় ভেঙেছে, চতুর্থবার ফাইনাল খেলতে নেমে চ্যাম্পিয়ন হলেন অবশেষে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের প্রীতি জিনতার মালিকানাধীন পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইএপিএল শিরোপা ঘরে তুললো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
ফাইনালে কোহলির বেঙ্গালুরু আগে ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে তুলেছিল ১৯০ রান। জবাবে পাঞ্জাব করতে পেরেছে ৭ উইকেটে ১৮৪।
১৯০ রান আইপিএলে অনেক বড় কোনো সংগ্রহ নয়। এবারের আইপিএলে আহমেদাবাদে প্রথম ইনিংসে এটিই সর্বনিম্ন সংগ্রহ। তবে স্পিনার ক্রুনাল পান্ডিয়ার ৪ ওভারে ১৭ রানে ২ উইকেট আর ফাইনালের চাপেই যেন হেরে গেছে পাঞ্জাব।
ওপেনার প্রভসিমরান সিং, প্রিয়াংশ আর্য থেকে শুরু করে নেহাল ওয়াধেরা—সবাই যেন খোলসবন্দী ছিলেন। প্রিয়াংশ করেন ১৯ বলে ২৪, প্রভসিমরান ২২ বলে ২৬। তবে পাঞ্জাবের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেছেন ওয়াধেরা। ১৮ বলে তার ১৫ রানের মন্থর ইনিংসেই পাঞ্জাব অনেকটা পিছিয়ে পড়ে।
ব্যতিক্রম ছিলেন জশ ইংলিস। ২৩ বলে ৩৯ রান করে পান্ডিয়ার বলে যখন তিনি আউট হন তখন পাঞ্জাবের দরকার ৪৭ বলে ৯৩। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউডদের বিপক্ষে এই রান করা সহজ ছিল না। সেটা তারা পারেওনি।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা বেঙ্গালুরুও বিধ্বংসী শুরু করতে পারেনি। কোহলির ১২৩ স্ট্রাইক রেট দেখেই কিছুটা তা আন্দাজ করা যায়। এদিন কোহলিকে একের পর এক বাউন্সার আর স্লোয়ারে আটকে রাখতে পেরেছেন পাঞ্জাবের বোলাররা। কোহলির ব্যাট থেকে অবশ্য ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৩ রান এসেছে।
বেঙ্গালুরু ১৯০ রান তুলেছে আসলে বাকি ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। রজত পতিদার, লিয়াম লিভিংস্টোন, মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও জিতেশ শর্মা—সবাই ২০ রানের বেশি করেছেন।
তাদের মধ্যে জিতেশ শর্মার ২৪ রানের ইনিংসটি ছিল সবচেয়ে বেশি ইমপ্যাক্ট ফুল। তার ১০ বলে ২৪ রানের ইনিংসে ২০০ রানের বেশি সংগ্রহ তোলার সম্ভাবনা জাগে বেঙ্গালুরুর। তবে শেষ ওভারে বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিং মাত্র ৩ রান দিলে সেটি আর হয়নি। তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন অর্শদীপ ও কাইল জেমিসন। অর্শদীপ খরচ করেছেন ৪০ রান, জেমিসন ৪৮।