তানভীর ইসলামের ক্যাচ ধরতেই ৯৯ রানের হার নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া একটু কঠিন হওয়ারই কথা ছিল। তবে বাংলাদেশ যেন লড়াইটুকুও করতে পারল না। ইনিংসে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৯.৪ ওভারে ১৮৬ রান করতেই অলআউট হয়ে যায় মিরাজরা।
২৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে তা লম্বা হয়নি। শুরুতেই তানজিদ ফেরার পর শূন্য রানে বোল্ড হয়ে যান নাজমুল হোসেনও। এরপর পারভেজকে নিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন হৃদয়, সেটিও বেশি লম্বা হয়নি।
একপ্রান্তে ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়া লেগে থাকলেও অপর প্রান্তে হৃদয় ধরে খেলছিলেন। কিন্তু ৫১ রানে তিনি বোল্ড হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের আশাও যেন শেষ হয়ে যায়। হার দিয়ে সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশ পরের ম্যাচ জিতে সমতায় ফেরে। শেষ ম্যাচটি হারায় ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারল তারা।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২৮৫ রান।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ক্যান্ডির পাল্লেকেল্লে আন্তর্জাতক স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। প্রথম দুই ওয়ানডে শেষে সিরিজ ১-১ সমতায় রয়েছে।
এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিতা আসালঙ্কা। এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। একাদশে ফিরেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। বাদ পড়েছেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ।
ম্যাচের শুরুতেই উইকেট তুলে নেন তানজিম। দলীয় চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই মাদুস্কাকে ফেরান তিনি। মাঠে নামেন কুশল মেন্ডিস। ব্যাটিংয়ে এসেই পাথুম নিশাঙ্কার সঙ্গে দেখে শুনে খেলতে থাকেন। কিন্তু তাদের এই জুটি বড় হতে দেননি আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া স্পিনার তানভীর। ব্যক্তিগত পঞ্চম ওভারের এসে পাথুম নিশাঙ্কাকে ফেরান তিনি।
এর পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিতে থাকে মিরাজরা। আসালাঙ্কা ও কুশলের ১২৪ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন।
মিরাজের বল ব্যাকফুটে এসে মিডউইকেটের দিকে খেলেন লিয়ানাগে। শটটা তিনি ঠিকঠাকই খেলেছিলেন, কিন্তু রানের জন্য দৌড় শুরুর করার আগেই তার পা গিয়ে লাগে স্টাম্পে। বাকিরা বুঝে ওঠার আগেই ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা ধরেন লিয়ানাগে, হিট উইকেট হয়ে আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ১২ রান করেন তিনি।
ইনিংসের বাকি ৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার বড় ভরসা ছিলেন কুশল মেন্ডিস। কিন্তু তিনিও আউট হয়ে গেছেন শামীমের করা পরের ওভারে। পেছনের দিকে অনেকটুকু দৌড়ে নিজের বলে নিজেই দারুণ এক ক্যাচ নিয়েছেন শামীম। ১১৪ বলে ১২৪ রানে তিনি আউট হয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে ২৮৫/৭: (কুশল ১২৪, আসালাঙ্কা ৫৮, নিশাঙ্কা ৩৫, হাসারাঙ্গা ১৮*, মিরাজ ২/৪৮, তাসকিন ২/৫১)
বাংলাদেশ ৩৯.৪ ওভারে ১৮৬/১০: (হৃদয় ৫১, মিরাজ ২৮, ইমন ২৮, জাকের ২৭, আসিথা ৩/৩৩, চামিরা ৩/৫১)