জাতীয় লিগে বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা বিসিবির

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় লিগে (এনসিএল) নতুন মাত্রা যোগ করতে চায়। বিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই সেপ্টেম্বরে একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বোর্ড। এর পাশাপাশি চারদিনের প্রথম শ্রেণির জাতীয় লিগে বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

বিসিবির প্রোগ্রামস প্রধান ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য সম্ভাব্য ২০ জনের একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠনের লক্ষে এই ঘরোয়া লিগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “এই টুর্নামেন্টে যারা ভালো করবে, তাদেরকে আমরা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বিবেচনা করতে পারব। হাতে ছয় মাস সময় থাকায় তাদের প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ থাকবে।”

গত বছর সিলেটে আয়োজন করা হয়েছিল জাতীয় লিগের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ। এবার সেই আসর তিনটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। সূচি হবে একটু ঢিলেঢালা, যেন খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় এবং ভালো উইকেটে খেলার সুযোগ পায়।

১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে জাতীয় লিগের চারদিনের ম্যাচের আসর। সেখানে প্রতিটি দলে দুজন বিদেশি খেলোয়াড়- একজন ব্যাটসম্যান ও একজন পেসার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটি।

মিনহাজুল বলেন, “আমরা চাই প্রথম শ্রেণির এই টুর্নামেন্ট আরও প্রতিযোগিতামূলক হোক। বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে আমাদের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং মানোন্নয়ন হবে।”

তবে, এই পরিকল্পনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে- অক্টোবর-নভেম্বরে উপমহাদেশের বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিজ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকে। তাই বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এছাড়া, স্থগিত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিএসএল) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিদেশি "এ" দল, যেমন শ্রীলঙ্কা "এ" বা আফগানিস্তান "এ" দলের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিসিবির নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে, যার প্রভাব জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।