সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, অশালীন বার্তা ছড়ানো, ব্ল্যাকমেইল ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার হয়রানির ঘটনা বাড়ছে। তবে এসব ঘটনায় অভিযোগ করেও অনেক ভুক্তভোগী কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার এক গৃহিণী (ছদ্মনাম নওশিন আফরোজ) জানান, তার ১২ বছর বয়সী মেয়ের ছবি ব্যবহার করে গত বছরের নভেম্বর মাসে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পান তিনি।
এ ঘটনায় পরিবারটি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে এবং দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। তবে প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট ভুয়া অ্যাকাউন্টটি এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, তার মেয়ের কোনো মোবাইল ফোন বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি প্রকাশ করলেই সেটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ফেসবুক পেজে এমন ধরনের অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ছে। বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে অনেক নারী জানিয়েছেন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ছবি বিকৃতি, হ্যাকিং এবং অনলাইন হয়রানির শিকার হলেও দ্রুত প্রতিকার পাচ্ছেন না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের নামে ভুয়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খোলা, ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানো এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী বলেন, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে অনেক ক্ষেত্রেই মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) এর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তবে সব অভিযোগে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় না।
তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা বিভিন্ন প্রশাসনিক ধাপ পেরিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। মেটার উত্তর পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মেটার আনুষ্ঠানিক তথ্য বিনিময় চুক্তি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে। ফলে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে বিলম্ব হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাইবার হয়রানির ঘটনা বাড়তে থাকায় সচেতনতার পাশাপাশি দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।