এখন আর আইফোন কিনতে হবে না, মিলবে ভাড়ায়

গ্রাহকদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে ব্যয় না করেও আইফোন, ম্যাকসহ বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ আনছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘লিজ’ বা ভাড়া কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাসিক কিস্তিতে এসব পণ্য ব্যবহার করতে পারবেন গ্রাহকরা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে তাদের ডিভাইস আরও বেশি মানুষের নাগালে আসবে।

এক বিবৃতিতে ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ নামে নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্লার্না’র সঙ্গে অংশীদারত্বে চালু হওয়া এই সেবা প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোর, অনলাইন স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

নতুন কর্মসূচির আওতায় আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ১২ অথবা ২৪ মাসের জন্য লিজ নেওয়া যাবে। অন্যদিকে ম্যাক ও আইপ্যাড লিজ নেওয়ার সুযোগ থাকবে ২৪ কিংবা ৩৬ মাসের জন্য।

এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত পণ্যের তালিকায় রয়েছে আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩, ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো, আইম্যাক, ম্যাক স্টুডিও, আইপ্যাড এয়ার, আইপ্যাড প্রো এবং আইপ্যাড মিনি। তবে আইফোন ১৬, ম্যাকবুক নিও, বেজ আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ এসই-এর মতো তুলনামূলক কম দামের মডেলগুলো এই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে।

অ্যাপলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আইফোন লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৯৯ ডলার। নতুন এই পরিকল্পনা আগের ‘আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম’-এর পরিবর্তে চালু করা হয়েছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকেরা অ্যাপল পণ্যকে এককালীন বড় বিনিয়োগের পরিবর্তে একটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন। তাঁর মতে, বর্তমানে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় একই স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। গত বছরের এক জরিপ অনুযায়ী, একজন গড় ব্যবহারকারী প্রায় ২২ মাস পর্যন্ত একই ফোন ব্যবহার করেন, ফলে প্রতি বছর নতুন ফোন কেনার প্রবণতা কমেছে।

এদিকে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের সংকট তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে অ্যাপলের নতুন আইফোনের দাম আরও বাড়তে পারে। টেক ইনসাইটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়ার্ড বলেছেন, এক হাজার বা এক হাজার ২০০ ডলারের পরিবর্তে এক হাজার ৫০০ ডলারের আইফোনের জন্য প্রস্তুত থাকার সময় এসেছে।

সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন উন্মোচনের আগেই এই লিজ কর্মসূচি চালু করল অ্যাপল। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা হতে পারে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের আকৃষ্ট রাখতে এবং ডিভাইস পরিবর্তনের প্রবণতা ধরে রাখতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে অ্যাপল।