অ্যাপল তাদের নতুন পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত ‘অ্যাপল পার্ক’ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। এবারের আয়োজনের ট্যাগলাইন রাখা হয়েছে ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’।
বুধবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এবারের আয়োজনটি অ্যাপলের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে জন টার্নাসের। ২০১১ সাল থেকে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়ে আসা টিম কুকের পর, জন টার্নাসের নেতৃত্বেই এটি হতে যাচ্ছে অ্যাপলের প্রথম কোনো পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই মডেল দুটিতে বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিক বা সীমিত আপগ্রেড দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, মূল ‘আইফোন ১৮’ মডেলটি এই অনুষ্ঠানে না এনে আগামী বছর বাজারে আনার পরিকল্পনা থাকতে পারে অ্যাপলের।
এছাড়া, এই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের আলোচনায় থাকা অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের পর্দাটি আকারে ‘আইপ্যাড মিনি’র কাছাকাছি হতে পারে।
বর্তমানে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের আধিপত্য রয়েছে। গত জুলাইয়ে তারা একটি নতুন ‘পাসপোর্ট’ আকৃতির ফোল্ডেবল ফোন উন্মোচন করেছে। অ্যাপল এই বাজারে প্রবেশের আগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই স্যামসাং ডিভাইসটি এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণে ফোল্ডেবল ফোনের ব্যবহার এখন সীমিত হলেও, ভবিষ্যতে তা সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে নির্মাতারা আশা করছেন।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকটে পুরো ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। চিপের বাড়তি খরচ সামাল দিতে অ্যাপল ইতোমধ্যে তাদের ম্যাক এবং আইপ্যাড-এর বিভিন্ন মডেলের দাম বাড়িয়েছে।
গত জুলাইয়ে অ্যাপল জানিয়েছিল, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় এখনো বড় ধরনের সংকট রয়েছে, যার ফলে বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ফোল্ডেবল ফোন খাতকে একটি বড় সম্ভাবনাময় জায়গা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির (IDC) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে মোট স্মার্টফোনের সরবরাহ ১৬.৭% কমে যেতে পারে। বিপরীতে, একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ফোল্ডেবল ফোনের সরবরাহ ১২.৬% বাড়তে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যে অ্যাপল বাজারে আনতে পারে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ফোল্ডেবল আইফোন।
এছাড়া অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেমগুলোর প্রকাশের তারিখও অনুষ্ঠানে জানানো হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আইওএস ২৭, আইপ্যাডওএস ২৭ এবং ম্যাকওএস গোল্ডেন গেট।
সব মিলিয়ে, নতুন আইফোনের পাশাপাশি ফোল্ডেবল ডিভাইস, নতুন প্রজন্মের স্মার্ট ডিভাইস ও নতুন সিইওকে ঘিরে ৯ সেপ্টেম্বরের আয়োজনটি অ্যাপলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।