বাংলাদেশেও প্লাস্টিক এখন গুরুতর সমস্যা। মারাত্মক পরিবেশ দূষণ করছে একবার ব্যবহারযোগ্য থেকে বার বার ব্যবহার করা যায় এমন প্লাস্টিক। পৃথিবীর বহু স্থানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। দেশে গত ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন বা পলিপ্রপিলিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প খুঁজছেন। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে এবার জাপানের গবেষকরা এমন এক প্লাস্টিক তৈরির দাবি করেছেন, যা সমুদ্রের পানিতে সম্পূর্ণ মিশে যাবে।
বেশ কিছু পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক থাকলেও সেগুলো সমুদ্রের পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয় না। আদতে কিছু প্লাস্টিক বর্জ্য আছে যেগুলো ৫০০ বছর পেরিয়ে গেলেও টিকে থাকে বহাল তবিয়তে।
এই সমস্যার সমাধানে জাপানের রিকেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্লাস্টিক তৈরি করেছেন, যা শক্ত থাকবে, তবে মাটি এবং সমুদ্রের পানিতে পুরোপুরি মিশে যাবে। এই প্লাস্টিক কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অবশিষ্ট রেখে যাবে না।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, লবণপানিতে রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন প্লাস্টিক ভাঙতে শুরু করে। মাটিতে রাখলে এ প্লাস্টিক মাত্র ১০ দিনের মধ্যে পচে গিয়ে এমন একটি রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে, যা সার হিসেবে মাটিকে উর্বর করতে ব্যবহার করা যায়।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া বিজ্ঞানী তাকুজো আইদা বলেন, “নতুন এক উপাদান দিয়ে আমরা এমন এক ধরনের প্লাস্টিক বানিয়েছি, যা শক্তিশালী, স্থিতিশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং নানা কাজে ব্যবহারের উপযোগী। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে না।”
খাবারের প্যাকেট কিংবা পানীয়ের বোতল-একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা এই প্লাস্টিক।
প্রতি বছর কোটি কোটি টন প্লাস্টিকের শেষ ঠিকানা হয় সমুদ্রে। এসব প্লাস্টিকের বেশিরভাগই “বায়োডিগ্রেডেবল” নয়। অর্থাৎ এসব প্লাস্টিক কাগজ বা খাবারের মতো স্বাভাবিকভাবে একসময় পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। বরং শত শত বছর ধরে পরিবেশে টিকে থাকে বহাল তবিয়তে।
আর পানির বোতলের মতো বড় প্লাস্টিক যখন ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, সেগুলোকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। এগুলো সহজেই মানুষ এবং বন্যপ্রাণীদের পেটে চলে যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবজীবনে এখন এক বড় হুমকি। প্রকৃতিতে প্লাস্টিক ভয়ংকর দূষণ সৃষ্টি করে চলেছে। নানাবিধ অসুস্থতার কারণ এই মাইক্রোপ্লাস্টিক। অনেক সময় মারণব্যাধি ক্যান্সারের কারণও এটি।
বিবিসি অবলম্বনে