Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘পতিতাবৃত্তির’ অভিযোগে ‌গৃহবধুকে চেয়ারম্যানের নির্যাতন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকে।

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ০৭:৩১ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পতিতাবৃত্তির অভিযোগ তুলে এক নারীকে (৪৫) নির্যাতনের ঘটনায় বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত এবং তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে বুড়িমারীর উফারমারা গুড়িয়াটারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পরদিন বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এদিকে, এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকে।

লিখিত অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারের জন্য চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন ওই নারী ও তার স্বামী। কিন্তু চেয়ারম্যান তার প্রতিপক্ষের পক্ষে অবস্থান নেন। 

চেয়ারম্যানের এমন আচরণে তার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই নারী ও তার স্বামী। 

এ ঘটনার পর থেকেই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন হুমকি দিয়ে আসছিলেন। 

ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, এরই জের ধরে বুধবার রাত ২টার দিকে চেয়ারম্যান নিশাতের নেতৃত্বে রফিকুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান ও রুবেলসহ তার লোকজন ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। এতে মারাত্মক জখম হন তিনি। বর্তমানে ওই নারী পাটগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘‘সম্প্রতি মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি আমার জমি দখল করে নেয়। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি এর প্রতিকার না করে উল্টো মতিয়ারের পক্ষে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান নিশাত গভীর রাতে লোকজনসহ আমার বাড়িতে ভাংচুর করে ও আমাকে মারধর করেন। আমার স্বামী ও ছেলে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এসময় আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।’ ’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাটগ্রাম থানার ওসি মনসুর আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ওই নারীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘‘আলাদতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে পতিতা বলার অধিকার কারও নেই।’ ’

About

Popular Links