Thursday, July 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জনবল সংকটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, ৪৭২ পদের ২১৭টিই শূন্য

প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের  

 

 

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৭২টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫৫ জন, অর্থাৎ ২১৭টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৭৪টি হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৮ জন। ফলে ৪৬টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। নার্সের ২৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯৯ জন, সেখানে শূন্য রয়েছে ৬৩টি পদ। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ১০টি পদের মধ্যে চারটি পদই শূন্য রয়েছে। অন্যান্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১২৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। এসব পদের ১০৪টিই শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক বিভাগে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী সোয়েব হাসান বলেন, “অসুস্থ হয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স না থাকায় চিকিৎসা সেবায় প্রত্যাশার চেয়ে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে  প্রতিদিনই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”

এক রোগীর অভিভাবক জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে বিভিন্ন রোগের ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই’ শুনতে হয়। এত বড় হাসপাতাল নির্মাণ হলেও দূর থেকে আসা রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফিরে যান।

আরেক রোগীর অভিভাবক আব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালের দালালচক্র প্রতিরোধ করতে হবে। তারা সুবিধা না পেলে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। দালালদের দমন করা গেলে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং হয়রানিও কমবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “অনেক সময় চিকিৎসকরা হাসপাতালে এলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির খারাপ আচরণের কারণে একে একে চলে যান। ফলে চিকিৎসক সংকট এখানে কাটে না।” এ বিষয়টি সমাধান করতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা সাজিয়া বেগম বলেন, “হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ দেখলে বোঝাই যায় যে সেখানে কর্মচারীর সংকট রয়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশা করে, অথচ হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় চিকিৎসা সেবায় চাপ বাড়ছে। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, “চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন হলে আমাদের ওপর চাপ কমবে এবং রোগীরা সহজে মানসম্মত সেবা পাবেন।”  

তিনি আরও জানান, লোকবল সংকটের বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় স্থানীয় সচেতন মহল।

   

About

Popular Links

x