দেশের প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আওতায় আনতে 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে এই বিশেষ কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের ৫৫তম এবং বর্তমান মেয়াদের নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, এই কল্যাণমুখী কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ১০০টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে 'কৃষক কার্ড' প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রতিজন ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিবছর সরাসরি এককালীন ২,৫০০ (আড়াই হাজার) টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা পাবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এটি কেবল শুরু। বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে যে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব অঞ্চলের প্রকৃত কৃষকদের এই 'কৃষক কার্ড' সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
কৃষি খাতের আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কৃষি খাতে একটি মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় খুব সহজে ১০টি জরুরি সেবা (যেমন- সার, বীজ, ঋণ ও অন্যান্য কৃষি সুবিধা) পৌঁছে দিতে সরকার চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ আনুষ্ঠানিকভাবে এই 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি চালু করেছিল। আজ বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ প্রস্তাবের মাধ্যমে এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, আজ অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও জনমুখী বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।



