Wednesday, July 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রতিবেশীর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মিললো নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিখোঁজের ৫২ দিন পর ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিখোঁজের ৫২ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬০) নামের এক ব্যক্তির মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী স্বজনের রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।  

আওলাদ হোসেন একই গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের ছেলে। তিনি গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম (৪২), বিন আমিন (৩৮) ও রিপন (৩৫)।

সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় আওলাদ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম (৩৮) ও তার সহযোগীরা জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওলাদ হোসেনের প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম কয়েক বছর আগে মারা যান। প্রায় তিন বছর আগে তিনি প্রতিবেশী মানিক ব্যাপারীর শ্যালিকা রানী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন রানী বেগম। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

গত ৯ মে আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ১০ মে তার ভাই বেলায়েত হোসেন সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে গত ২৩ মে বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে রানী বেগম ও মানিক ব্যাপারীকে আসামি করে অপহরণের মামলা করেন। এই মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর থেকে রানী বেগম, প্রতিবেশী মানিক ব্যাপারী ও পাশের একটি গরুর খামারের কর্মী সাইফুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। তাদের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে।”

ওসি আরও বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় সাভারের  একটি গরুর খামার থেকে সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সাইফুল জানান যে আওলাদ হোসেনকে হত্যার পর পাশের মানিক ব্যাপারীর রান্নাঘরের মেঝের নিচে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, রানী বেগমের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। আওলাদ হোসেন তার তৃতীয় স্বামী ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হওয়ার দিনই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

   

About

Popular Links

x