Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রেন বুড়িগঙ্গা!

শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গার অবস্থা হয় জীবন্মৃত। থাকে না অক্সিজেন, থাকে না কোনো জলজীবের অস্তিত্ব।

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ০১:৫২ পিএম

নদী দূষণকারী ১৫৬ টি ট্যানারি কারখানাকে বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাভারে স্থানান্তরিত করা হলেও দূষণের হাত থেকে রেহাই পায়নি নদীটি।

চলতি শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গার অন্তত আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নোংরা পানি আরও নোংরা হচ্ছে যানবাহনের পোড়া তেলসহ বিভিন্ন দূষিত বর্জ্য ফেলার কারণে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গার অবস্থা হয় জীবন্মৃত। থাকে না অক্সিজেন, থাকে না কোনো জলজীবের অস্তিত্ব। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিমাসেই নিয়মিত বুড়িগঙ্গার পানি পরীক্ষা করে।

দূষণের ফলে বুড়িগঙ্গার উভয় তীরে কেবল বিষাক্ত দুর্গন্ধ। তীরসংলগ্ন খোলামোড়া এলাকার মানুষের জীবন এই দুর্গন্ধে হয়ে উঠেছে দুঃসহ। স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক ফজলে রাব্বি ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, নদী তীরে বাস করার সমস্ত রকম সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত।


আরও পড়ুন- ছবিতে ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গার করুণ দশা 


“শুষ্ক মৌসুমে আমরা বুড়িগঙ্গার কালচে পানিতে ভুলেও হাত দেই না। দূষিত বাতাসের কারণে বাচ্চারা বিভিন্ন অসুখে ভোগে। কখনো কখনো শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

এক সময়ে ঢাকা শহরের সবচেয়ে নির্মল বাতাস উপভোগ করা যেত বুড়িগঙ্গা তীরে। আর এখন দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারাই মজা অথবা আক্ষেপের সুরে একে একে ডাকেন “বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রেন” নামে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিএ-র এক কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রত্যেক সরকারের আমলেই নদী রক্ষার ব্যাপারে জোর দিয়েছে। কিন্তু দেখুন বুড়িগঙ্গা, তুরাগ কিংবা বালুর অবস্থা...এগুলো নালা ছাড়া আর কিছুই না।”

সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত এই আট মাস বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর আশপাশের নদীগুলো হয়ে পড়ে প্রাণহীন। এই সময়ের মধ্যে মেঘনা নদীর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে ঢাকার নদীগুলোর পানিপ্রবাহ।

About

Popular Links