যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় গরম সহ্য করতে না পেরে একটি পোলট্রি খামারের চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
তিন লক্ষাধিক টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন খামার মালিক দুই তরুণ উদ্যোক্তা মো. হাসান ও মো. হোসেন।
জানা গেছে, হাসান ও হোসেন বুইকরা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও মরজিনা বেগম দম্পতির জমজ সন্তান। মোহাম্মদ আলী আগে দিনমজুরি করতেন। অর্থাভাবে সন্তানদের পড়াশোনা বেশি করাতে পারেননি। হাসান আকিজ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ডিপ্লোমা করেছেন। হোসেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়েছেন। অনেক দৌঁড়ঝাপ করেও চাকরি পাননি কেউ। বেকারত্ব ঘোচাতে ২০২৩ সালে এনজিও থেকে নেওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণে পোলট্রি খামার শুরু করেন। বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৫ শতাংশ জমিতে খামারটি গড়ে তোলেন তারা। এতে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। পরিবারের সবাই এই খামারে শ্রম দেন।
খামারটিতে গত শুক্রবার পর্যন্ত আড়াই হাজার মুরগি ছিলো। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মুরগি কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হতো। রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এই সময়ের মধ্যে বিক্রির উপযোগী চার শতাধিক মুরগি মারা যায় বলে জানান মো. হাসান।
মো. হাসান বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেলো। আমরা ধারদেনা করে দুই ভাই মিলে খামারটি করেছি। বাবা-মাকে নিয়ে সারাদিন দেখাশুনা করি। এবার মুরগি বিক্রির সময় হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম বিক্রি করে সব দেনা পরিশোধ করবো। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে সব শেষ হয়ে গেলো।”
তার ভাষ্য, মুরগির খাবার এবং ওষুধের দোকানে বাকিসহ সব মিলিয়ে সোয়া লাখ টাকার মতো ঋণ আছে। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে তিন লক্ষাধিক টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।'
নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম সনজিৎ কুমার মণ্ডলের বলেন, “সরখোলা গ্রামে তারের ওপর শুক্রবার রাতে নারিকেল গাছ পড়ে। এতে একটি তার ছিঁড়ে যায়। এ কারণেই ওই এলাকার লাইনে বিভ্রাট দেখা দেয়। রাতে ঘটনা ঘটায় তারা কিছুই করতে পারেননি। গতকাল সকালে লাইনটি ঠিক করা হয়েছে।”



