Monday, August 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিম্নাঞ্চলের ১৫ গ্রাম প্লাবিত

আখাউড়ার এসব এলাকার বাড়িঘর, ফসলের জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন সবজির জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বানের পানি প্রবেশ করার কারণে নিম্নাঞ্চলের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আশ্রয় কেন্দ্র ও ত্রাণ তৎপরতার সার্বিক বিষয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাত থেকে হঠাৎ করেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদী, জাজির খাল এবং কালন্দী খাল দিয়ে হু হু করে প্রবেশ শুরু করতে শুরু করে।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের অফিস এবং আশেপাশের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে। নিম্নাঞ্চলের ফসলের জমি, মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে আখড়া উপজেলার, দক্ষিণ ইউনিয়ন, আনোয়ারপুর, হিরাপুর, আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বর, বঙ্গের চর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, সাহেব নগর, উমেদপুর ও বাউতলা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে আখাউড়া পৌর এলাকার, নারায়নপুর, তারাগন, ধাতুর পহেলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছ।

এছাড়া মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবেশ করা বাড়িঘরের বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধির পাওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়বে।

আবদুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “অনেক কষ্ট করে এবং বেশি দাম দিয়ে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। পাহাড়ি ঢলের পানিতে এখন সব তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে আবার কীভাবে নতুন করে ধান লাগাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকার যেন আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।”

বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়াও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, “ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। এভাবে পানি আরও বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢলে তার চারকানি ধানি ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে জমিটি হয়তো রক্ষা পাবে। অন্যথায় তার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহবুব মিয়া জানান, ভোররাতে আসা সর্বনাশা ঢলে আমাদের স্থলবন্দর, এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বাড়তে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়বে।

পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বসতবাড়িতে পানি

আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মিয়া জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল, সীমান্তবর্তী নদী আখাউড়ার হাওড়া এবং দুটি খাল জাজি এবং কালন্দী খাল দিয়ে বানের পানি প্রবেশ করে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

খবর পেয়ে আখাউড়ার ইউএনও বিভিন্ন এলাকা পরিবেশন করেছেন। তবে তিনি যাওয়ার পর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারী বৃষ্টি না হলে পানি কমে যাবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মোট ৩২ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১,৪০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে আছে।

তিনি আরও জানান, উজান থেকে নেমে আসা বানের পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়নগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে শুকনো খাবার, চাল, ত্রাণ সামগ্রী ও ওষুধ রাখা হয়েছে।

তবে দুপুরে পর থেকে পানির কমতে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তারা।

   

About

Popular Links

x