Monday, September 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজী নজরুলের এমপি পদ কি থাকবে?

সংসদীয় ইতিহাসে এর আগেও এই আইনের প্রয়োগ দেখা গেছে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি বাতিল হচ্ছে না। সংবিধান ও প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কারের পর পদ শূন্য হওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দলীয় পদ থেকে বহিষ্কৃত হলেই সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। সংবিধানে কোনো সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে পদ শূন্য হওয়ার বিধান স্পষ্ট থাকলেও বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে এক্ষেত্রে ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ এবং সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আইন অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন জানালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কমিশনের নেই। জামায়াত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রথমে বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট উত্থাপন করতে হবে।

১. স্পিকারের বিবরণী তৈরি: বিতর্ক তৈরি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে স্পিকার বিরোধের মূল বিষয় ও পক্ষগুলোর পরিচয় সংবলিত একটি বিস্তারিত বিবরণী প্রস্তুত করে বিচারিক পর্যালোচনার জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।

২. ইসিতে শুনানি ও বিচার: স্পিকারের রেফারেন্স পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে ইসি উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠাবে। নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষের আইনজীবী ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিচারিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

৩. দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা: এই শুনানিতে ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর-১৯০৮’ অনুযায়ী ইসির একটি পূর্ণাঙ্গ দেওয়ানি আদালতের মতো সমন জারি, শপথ করিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ ও নথি তলবের ক্ষমতা থাকবে।

৪. ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত: নথি পাওয়ার সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে ইসিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে। ইসি যদি পদ বাতিলের সুপারিশ করে, তবেই সংসদ সচিবালয় থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এর আগেও এই আইনের প্রয়োগ দেখা গেছে। ২০০০ সালে তৎকালীন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানের সদস্যপদ স্পিকারের রেফারেন্সে ইসি শুনানির মাধ্যমে বাতিল করেছিল। এ ছাড়া ২০১৫ সালে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদের বিষয়ে স্পিকার ইসিতে রেফারেন্স পাঠিয়েছিলেন (পরে তিনি শুনানি চলাকালে নিজে পদত্যাগ করেন)।

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ পূর্বেই জানিয়েছেন, জামায়াত বহিষ্কারের তথ্য জানালেও সংসদীয় সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি বা রেফারেন্স ইসিতে পৌঁছালে আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

   

About

Popular Links

x