Wednesday, September 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রডের বদলে বাঁশ দিয়ে সেতুর ঢালাই, সাব ঠিকাদার গ্রেপ্তার

মামলার পর আজ সন্ধ্যায় ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাব ঠিকাদার শাহা আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাব ঠিকাদার শাহা আলমের বিরুদ্ধে থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহা আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে সোমবার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে ঢাকা সদর দপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডি ও বাসাইল উপজেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মো. ছাদেকের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি এবং জেলা এলজিইডির তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা সেতুর নির্মাণকাজের মান ও ব্যবহৃত উপকরণ পরীক্ষা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মুঠোফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে স্থানীয়রা চলে গেলে রাতেই আবার নির্মাণকাজ শুরু করা হয় এবং ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই শেষ করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়টির সত্যতা পান বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে জেলা সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পৃথক কমিটি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, “ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।“

তিনি আরও বলেন, “নকশাবহির্ভূত কাজ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।“

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, “মামলার পর সাব ঠিকাদার শাহা আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বুধবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে। মামলায় চুক্তিনামা ভঙ্গ ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কাসহ সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।“

   

About

Popular Links

x