নাটোরের লালপুরে হ্যাকিং, ডিজিটাল প্রতারণা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে ওহিদুল মোল্লা (৩২) ও তার ছয় সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এক কনস্টেবলও রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, ওহিদুল এলাকায় হ্যাকিং চক্রের 'গুরু' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ওহিদুল লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা। মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান ওহিদুল প্রায় পাঁচ বছর আগেও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে কিছুদিন ইজিবাইক চালিয়েছেন। এর আগে চুরির অভিযোগে কয়েকবার আটক হওয়ার তথ্যও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সময়ের সঙ্গে তিনি হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। বিলমাড়িয়া বাজারসংলগ্ন নদীর ধারের একটি নতুন বাড়িতে তিনি হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার কার্যক্রম চালাতেন। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, হ্যাকিংয়ের আয়ে তিনি দুটি বাড়ি করেছেন। দুটি বাড়ির চারপাশেই সিসিটিভি নজরদারি ছিল।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিলমাড়িয়া এলাকায় ওহিদুলকে সহযোগীরা 'গুরু' হিসেবে মানতেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।”
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল বাড়ির নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত বসানো হয়েছিল প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ফলে অপরিচিত কেউ এলাকায় ঢুকলেই তার গতিবিধি নজরে আসত।
বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখা হতো। সেই ঘরের ভেতরেই ছিল একটি বিছানা, সিসিটিভি মনিটর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও অন্যান্য আসবাব। বাইরে থেকে দেখে সেটিকে মানুষের থাকার ঘর বলে বোঝার উপায় ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, হ্যাকিংয়ের কাজে ৯টি মোবাইল ফোনে অদলবদল করে ৬৮টি সিম কার্ড ব্যবহার করা হতো। কোন সিম কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা বোঝাতে সাংকেতিক চিহ্নও দেওয়া ছিল।
পুলিশের দাবি, এসব নম্বরের শেষ চারটি ডিজিটের সঙ্গে মিল রেখে নতুন নম্বর তৈরি করা হতো। এরপর প্রবাসীদের পরিচিত বিকাশ এজেন্টদের বিভ্রান্ত করে ওই নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হতো। এভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লালপুর থানা পুলিশ তাকে ও ছয় সহযোগীকে আটক করে। আটকদের একজন আল আমিন, উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী আরআরএফের কনস্টেবল। গ্রেপ্তারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আল আমিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হ্যাকিং ও প্রতারণার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ওহিদুল মোল্লা, আল আমিন ও মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আলাদা মামলা করা হয়েছে।
পানসিপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন জানান, আল আমিনকে গ্রেপ্তারের কথা তিনি শুনেছেন। আল আমিন কৃষক পরিবারের সন্তান এবং প্রায় পাঁচ বছর আগে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। তবে তিনি মাদক ব্যবসা বা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান এই ইউপি সদস্য।
আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ বুধবার বলেন, “নাটোর জেলা পুলিশের কাছ থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। জেলা পুলিশ লিখিতভাবে জানালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
তিনি আরও জানান, আল আমিন কোনো ছুটি না নিয়েই সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।



