টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শশুর বাড়ি গিয়ে নিলুফা আক্তার মিলু (৪০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্বামী হযরত আলী। এ সময় ঘটনাস্থলে শাশুড়ি এগিয়ে এলে জামাতা তাকেও কুপিয়ে আহত করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিলুফার পিতা ছইনুদ্দিন বলেন, “আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও জামাতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে।”
স্থানীয় ও পারিবার ও পুলিশ জানায়, প্রায় ৬ বছর আগে ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের হযরতের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাদে কাকনা গ্রামের নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মাঝে চলতে থাকে দাম্পত্য কলহ। এরই জের ধরে নিলুফা এক সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেন। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শশুর বাড়ি যান। সেখানে স্ত্রী নিলুফাকে দেখামাত্রই এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকে। এসময় নিলুফার মা চেনবানু মেয়েকে বাঁচাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন হযরত। এরপর হযরত আলী তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে উদ্বার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমী ভৌমিক বলেন, “গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত আলী ও চেনবানুকে আনা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওই রাতেই দুইজনকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
পুলিশ জানায়, হযরতের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও আহত চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত হযরত পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”



