Thursday, September 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পদ্মার পাড়ে পড়ে ছিল বাইসাইকেল-জুতা, ৪৫ দিনেও সন্ধান নেই রাহাতের

দ্রুত তদন্ত করে ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাবা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

পাবনার সুজানগরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী মো. রাহাতের (১৫) সন্ধান ৪৫ দিনেও মেলেনি। নিখোঁজের পরদিন সকালে বাড়ি থেকে বেশ দূরে পদ্মা নদীর পাড়ে তার বাইসাইকেল ও একজোড়া জুতা পাওয়া গিয়েছিল। দ্রুত তদন্ত করে ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন রাহাতের বাবা কৃষক মো. মুন্নুচ আলী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান মুন্নুচ আলী।

রাহাত সুজানগর উপজেলার ভায়না গ্রামের বাসিন্দা। সাতবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে সে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় গত ৯ আগস্ট সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্নুচ আলী বলেন, “৯ আগস্ট বিকেলে রাহাত বাইসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে ফেরেনি। প্রথমে বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।“

পরদিন সকালে মানিকহাট ইউনিয়নের গুপিনপুর গোরস্তানসংলগ্ন মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশে পদ্মা নদীর পাড়ে রাহাতের ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও জুতা পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে দূরের ওই স্থানে এসব পড়ে থাকা নিয়ে তখন থেকেই পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

মুন্নুচ আলীর দাবি, নিখোঁজের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কয়েকটি মোটরসাইকেল সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই যানবাহনের সঙ্গে রাহাতের নিখোঁজ হওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, "আমরা কারও বিরুদ্ধে নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাই না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক। আমার একটাই দাবি, আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।"

রাহাতের নিখোঁজের ঘটনায় ১০ আগস্ট সুজানগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৬ আগস্ট তার বাবা অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। পরিবার জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে।

মামলা হওয়ার পরও ৪৫ দিনেও কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ বেড়েছে। ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে, এ নিয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ায় প্রতিদিন উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের।

রাহাতের বাবা বলেন, "৪৫ দিন ধরে আমরা জানি না আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না, কোথায় আছে। প্রতিদিন অপেক্ষা করছি, হয়তো আজ ছেলের কোনো খবর পাব। আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলেকে খুঁজে বের করুন।"

   

About

Popular Links

x