নাটোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে সাত বছরের এক শিশুর আঙুল বঁটি দিয়ে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাটোরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটোর পৌরসভার হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে নাটোর থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন সর্বশেষ নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় নাটোর শহরের হরিশপুর মহল্লার চেয়ারম্যান রোড এলাকায় মাহমুদুল হাসান মিলনের বাড়িতে পরিবারের সদস্য ও ভাড়াটিয়াদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল শাকিল হোসেনের শিশুসন্তানের সঙ্গে মাহমুদুল হাসান মিলনের শিশুসন্তানের মারামারি হয়। পরে উভয় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে মাহমুদুল হাসানের বাসার ভাড়াটিয়া পুলিশ কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাহরিন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে তারা জোর করে মাহমুদুল হাসানের সাত বছরের ছেলে বায়েজিদ বিন মাহমুদকে ধরে তাদের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বায়েজিদকে জোর করে শাকিল হোসেনের কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে শিশুটির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কক্ষে নাহরিন শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল ধরে রাখেন। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন ধারালো বঁটি দিয়ে ওই আঙুলে উপর্যুপরি কোপ দেন। এতে শিশুটির আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।"



