স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার খেলার মাঠে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
শুক্রবার(২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি মাঠে ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিলেন আফসার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খেলার একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং হাঁটু গেড়ে বসতে গিয়ে উপুড় হয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত অন্যরা তাকে ধরে বুকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি পানি দেওয়ার চেষ্টা করলেও তার শরীরে আর কোনো সাড়া মেলেনি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা আফসারের আকস্মিক এই মৃত্যুতে তার ব্যাচমেট ও বন্ধুমহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক আফসার যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি না পাওয়ায় কিছুটা হতাশ ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামে।
এই ঘটনার পর সিপিআর প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসক আবদুন নূর তুষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, তিনি বহুবার সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের কারণেই ক্রিকেটার তামিম ইকবাল বেঁচে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, এবার একজন সরকারি কর্মকর্তাকে বাঁচানো গেল না।
আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা হৃদয় মাহমুদ চয়নের পাঠানো শোকবার্তায় মন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান। মন্ত্রী বলেন, “আফসারের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ একজন দক্ষ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে হারাল, যার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” এ সময় তিনি মরহুমের পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।



