Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পারিশ্রমিক চাওয়ায় চোখে স্ক্রু ড্রাইভার, দৃষ্টি হারাতে বসেছে কিশোর মিলন

মিলনের দু’চোখ ও নাকের মধ্যে স্ক্রু ড্রাইভার ঢুকিয়ে আঘাত করে সে। এ সময় আল আমিন উপস্থিত ছিল। পরে মিলনের ডান হাতের তালুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন তলার ছাদ থেকে মিলন পড়ে গেছে বলে অপপ্রচার চালায় মামুন, আল আমিন ও কবির হোসেন।

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ১০:৫৫ এএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মজুরি চাওয়ায় স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে কিশোর মিলন হোসেনের (১৬) চোখ নষ্ট করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

২৮ মে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোড়াই এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার গোড়াই রাজাবাড়ি বানিয়াচালা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মামুন (২৩) ও মাজেদ দেওয়ানের ছেলে আল আমিন (২০)। 

এর আগে মিলনের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে গত ৯ মে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় মিলনের  চাচাতো ভাই মামুন, আলামিন ও স্থানীয় ডিশ ব্যবসায়ী কবির হোসেনকে।

মির্জাপুর ওসি একেএম মিজানুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় অপর আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।”

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মিলন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রাজাবাড়ি বানিয়াচালা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।  

পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়ই শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটে মিলনের। চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দেয় ডিস লাইনের কাজে। কিন্তু বয়সে ছোট ও কাজ না জানার অজুহাতে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয় মিলনকে। এরই মধ্যে মিলন পারিশ্রমিকের টাকা চাইলে স্ক্রু ড্রাইভার তার চোখে ঢুকিয়ে দু’চোখই নষ্ট করে দেওয়া হয়। 

চিকিৎসকরা বলেছেন, ছেলেটির এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যটিতেও আলো ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। 

মিলনের বাবা গিয়াস উদ্দিন জানান, মামুনের মামা কবির হোসেনের ডিশ ব্যবসা রয়েছে। মামার ডিশলাইনে কাজ করে মামুন। মামুনের সঙ্গে মাঝেমধ্যে একই কাজ করত মিলন। তার সঙ্গে আল আমিন নামে তাদের এক প্রতিবেশীও কাজ করে। মামুন মিলনকে কোনো টাকা-পয়সা দিত না। কাজের টাকা চাওয়ায় মিলনের ওপর মামুন ক্ষুব্ধ হয়। 

পরে গত ১২ এপ্রিল বিকেলে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকার একটি তিনতলা বাড়ির ছাদে নিয়ে মিলনের দু’চোখ ও নাকের মধ্যে স্ক্রু ড্রাইভার ঢুকিয়ে আঘাত করে সে। এ সময় আল আমিন উপস্থিত ছিল। পরে মিলনের ডান হাতের তালুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন তলার ছাদ থেকে মিলন পড়ে গেছে বলে চালায় মামুন, আল আমিন ও কবির হোসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় সন্ধ্যায় মিলনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মিলনের বাবা-মা। মামুন তাদের জানায়, মিলন তিন তলার ছাদ থেকে পড়ে গেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ওই রাতেই মিলনকে আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সে সময় মামুনও সঙ্গে ছিল। 

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ দিন চিকিৎসার পর ১ মে মিলনের জ্ঞান ফেরে। চিকিৎসা শেষে গত ২০ মে নিজ বাড়িতে যায় মিলন। 

মিলন জানায়, ঘটনার দিন তাদের সঙ্গে ছিলেন পাশের বাড়ির আলামিনও। তিনজন মিলে পাশের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের নিউটেক্স গ্রুপ কারখানাসংলগ্ন আনিস মুন্সির বাসায় ডিশ সংযোগের কাজ করতে যান। একপর্যায়ে মামুনের কাছে কাজের মজুরি দাবি করেন মিলন। এতে ক্ষিপ্ত পাশের একটি তিনতলা ভবনের ছাদে যান তারা। সেখানে মামুন ও মিলনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন আমার ডান চোখে স্ক্রু ড্রাইভার ঢুকিয়ে ঘোরাতে থাকে। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই। আর কিছু মনে নেই আমার।

About

Popular Links