Wednesday, September 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অপ্রতিম হত্যা: শুধু আইফোন নয়, অন্য যোগসূত্রও খুঁজতে বললেন বাবা

অপ্রতিম হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ এএম

কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, আইফোন হাতিয়ে নিতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। শুধু আইফোন নয়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন অপ্রতিমের বাবা।

পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর গত বুধবার রাত থেকে গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিন দফায় মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৮৭৪ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪১৯ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং ১৬ ও ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর। অপর আসামি সিয়াম (১৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। পরে টিকটকে যোগাযোগ করে পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী কিশোরের দেখা হয়। এরপর সে ১৫ বছর বয়সী বন্ধুকে নিয়ে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।

ওই কিশোরের বর্ণনা অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে সেটি তুহিনের হাতে দেওয়া হয়। ফোন নেওয়া নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তুহিন তাকে থাপ্পড় মারেন, পরে কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর অন্য দুজনকেও মারতে বলা হয়। জবানবন্দিতে আরও বলা হয়েছে, ফোনটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দুই কিশোরকে ভাগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

১৬ বছর বয়সী কিশোর তার জবানবন্দিতে বলেছে, আইফোন নেওয়ার জন্যই অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন তুহিন। ১৫ বছর বয়সী কিশোরও জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তাকে বলা হয়, তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।

আসামিদের স্বীকারোক্তির সঙ্গে পরিবার খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করছে। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “একটি আইফোনের জন্য একজন মানুষকে হত্যা করা হবে, বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। কান্ট্রি লকসহ বিভিন্ন ধরনের হাই সিকিউরিটি থাকার কারণে চুরি বা ছিনতাই করা আইফোন সহজে কেউ বিক্রি করতে পারে না। বিষয়টি কমবেশি সবাই জানেন।”

তিনি বলেন, “তাই শুধু একটি আইফোনের জন্য সাত দিন আগে পরিকল্পনা করে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে, বিষয়টি এমন না-ও হতে পারে। এর পেছনে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের নেতা বা বড় ভাই জড়িত আছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।” 

ফিরোজ শাহরিয়ারের ভাষ্য, “অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ইস্যুই জড়িত নয়; এর সঙ্গে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে।”

এদিকে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন মামলাটি তদন্ত করছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এর আগে একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছিলেন।

পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ বলেন, “আসামিদের জবানবন্দির পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।”

   

About

Popular Links

x