Sunday, October 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এনসিটি-সিসিটি-জিসিবিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

আট দফা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)-এ বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ বন্ধসহ আট দফা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ।

রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সামনে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তারা এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবি জানান।

তারা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা করছেন না তারা। বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানান তারা। তবে দেশের নিজস্ব অর্থে নির্মিত এবং দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে পরিচালিত এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির মতো বিদ্যমান টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করেন তারা।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি পরিচালনা করছে। লালদিয়ার চরে নতুন টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগও রয়েছে। এ অবস্থায় এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালও বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এসব টার্মিনালে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হলে তাদের কর্মসংস্থান ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেকোনো বিদেশি পরিচালিত টার্মিনালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অন্তত ২০% দক্ষ জনবল নিয়োগের শর্ত রাখার দাবি জানান তারা।

তারা বলেন, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে পরিচালনার পরিবর্তে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রম শাখার অন্তর্ভুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের এনসিটিতে কাজের নিশ্চয়তা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে এনসিটি ও সিসিটির অপারেশন চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড পরিচালনা করছে এবং জিসিবি বন্দরের নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। জিসিবিতে দেশি বা বিদেশি কোনো অপারেটর নিয়োগ তারা মেনে নেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে দেওয়া স্মারকলিপিতে এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা, বিদেশি পরিচালিত টার্মিনালে বন্দর থেকে দক্ষ জনবল নিয়োগ, এনসিটিতে ডকুমেন্টেশন ও পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাখা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজের নিশ্চয়তা, জিসিবিতে অপারেটর নিয়োগ বন্ধ, অনুমোদিত আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়ন, সিবিএ নির্বাচন এবং শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া। এছাড়া বক্তব্য দেন মুজাহিদুল ইসলাম আদনান, আমিনুল ইসলাম রুমেল, মো. শাহ আলম, রেজাউল করিম সেলিম, মো. আমানুল্লাহসহ শ্রমিক নেতারা।

   

About

Popular Links

x