Monday, October 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে অসুস্থ ১৯ শিশু, হাসপাতালে ভর্তি

তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জানান, দুধ পান করার পরপরই শিশুদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, খিঁচুনি ও দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি শিক্ষার্থীদের অবস্থা স্থিতিশীল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের "আরডি" নামের প্যাকেটজাত দুধের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান শিক্ষকেরা। কয়েকটি প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায়ও ছিল।

শিক্ষকেরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানান এবং হোয়াটসঅ্যাপে প্যাকেটের ছবি পাঠান। পরে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে দুধ পরীক্ষা করেন, নিজে তা পান করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।

শিক্ষকদের ভাষ্য, দুধ পানের প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। একে একে আরও শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ জনে দাঁড়ায়।

চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, "দুধ খাওয়ার পর থেকে আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।"

শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, "দুধ বিতরণের সময়ই আমরা কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং দুধ দইয়ের মতো দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার জন্য বলেছিলাম। পরে কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।"

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “প্রথমে একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা একে একে সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। বর্তমানে সবার অবস্থা স্থিতিশীল এবং অনেকেই ভালো আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।“

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

   

About

Popular Links

x