Tuesday, October 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আশুলিয়ায় অপহৃত শিশু ময়মনসিংহে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

স্কুলগেট থেকে ওই শিশুকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ঢাকার আশুলিয়ায় স্কুল ছুটির পর গেটের সামনে থেকে অপহৃত আট বছরের শিশুকে ময়মনসিংহ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে টাকা দেওয়ার আগেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কথিত অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া গোচারটেক এলাকায় আলহাজ আব্দুর রশিদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে শিশুকে অপহরণ করা হয়। স্কুল ছুটির পর প্লে-শ্রেণির ওই ছাত্রকে গেটের সামনে থেকে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ‍শিশুর বাবা মো. নাছির উদ্দিন আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করেন। এরপর শিশুকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে অপহরণকারীদের অবস্থান ময়মনসিংহে শনাক্ত করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে জেলার ভালুকা থানার মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

সেখান থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার নেওকা এলাকার মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের হেফাজত থেকে শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তি তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ময়মনসিংহে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপহরণের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, শিশুকে কোথায় ও কীভাবে রাখা হয়েছিল এবং মুক্তিপণ দাবির পেছনে কী পরিকল্পনা ছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে। তবে স্কুলগেট থেকে একটি শিশুকে অপহরণ করে অন্য জেলায় নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

   

About

Popular Links

x