দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে গত সোমবার ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটিতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে সংস্কারকাজের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ।
ত্রুটি শনাক্ত করে তা মেরামত করে উৎপাদনে ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।
তিনি বলেন, “সোমবার ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এক নম্বর ইউনিটের ক্যাবলে বড় ধরনের ক্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তিন নম্বর ইউনিটেও টারবাইনে বড় ধরনের ক্রুটি দেখা দেয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগবে। টারবাইন ঠান্ডা হতেই ১৫-২০ দিন সময় লাগে। ঠান্ডা হবার পর কাজে হাত দেওয়া যাবে।”
তবে এক নম্বর ইউনিটকে আগে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে এক ও দুই নম্বর ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং তিন নম্বর ইউনিট ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। দুই নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বিকল হয়ে ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে।
তবে বন্ধের আগে এক নম্বর ইউনিট থেকে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট এবং তিন নম্বর ইউনিট থেকে ১৬৫ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
ফলে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধের পর প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। এর প্রভাবে বেড়ে গেছে লোডশেডিং।



