রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের মধ্যে মো. সাকিবুস হাসান ও আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের তিন দিন করে এবং মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পরে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত, উসকানিদাতা ও মদতদাতাদের খুঁজে বের করা, পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় জানা এবং অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করাসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে এ আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেওয়ালের কাছে চারজন একত্র হন। এ সময় আয়াসসহ অন্যরা বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশের দাবি, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, রিমি ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান।
মামলায় গ্রেফতার অন্য দুই আসামি হলেন মো. সাকিবুস হাসান (১৯) ও মো. সুজন মিয়া (১৮)। মামলার নথি অনুযায়ী, সাকিবুসের বাবার নাম হারমুজ আলী, আয়াসের বাবা মোস্তফা, সুজনের বাবা সুলেমান এবং রিমির বাবা মোস্তাক আহমেদ খন্দকার। তাদের স্থায়ী ঠিকানা যথাক্রমে শেরপুর, ময়মনসিংহ, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে আরও দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে যান বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।



