Saturday, October 17, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

এ বছর প্রতি মণ পাট ১ হাজার থেকে ১,৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

গোপালগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনের পর বাজারে আশাতীত ভালো দাম পেয়ে খুশিতে উদ্বেলিত স্থানীয় চাষিরা। বর্তমানে জেলার হাট-বাজারগুলোতে প্রকারভেদে প্রতি মণ পাট ৪,৭০০ টাকা থেকে ৫,৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাটকলগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় মজুদদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে পাট কেনার আগ্রহ বাড়ায় বাজারে বেড়েছে আমদানি ও বেচাকেনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি মণ পাট ১ হাজার থেকে ১,৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫০,৯৬০ মেট্রিক টন। তবে কৃষকদের আগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮২৭ হেক্টর বেশি, অর্থাৎ মোট ২৫,৬৮৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়। এতে মোট পাট উৎপাদিত হয়েছে ৫২,৬৫৬ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১,০৯৬ টন বেশি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কাশিয়ানী উপজেলার জেলার সবচেয়ে বড় পাটের হাট ভাটিয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় মুখরিত বেচাকেনার দৃশ্য। ভাটিয়াপাড়া বাজারের আড়তদার শামীম শেখ জানান, মৌসুমের শুরুতে মিলগুলো ক্রয় ও পেমেন্ট সাময়িক বন্ধ রাখায় দর ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় নেমেছিল। তবে বর্তমানে পাটকল ও মজুতদাররা ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে কেনা শুরু করায় বাজারে জোয়ার এসেছে।

খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানান, প্রতি মণ পাট উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩,৮০০ টাকা। ফলে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মণ পাট বিক্রি করে চাষিরা ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন। পাটের এই বাজারদর বজায় থাকলে আগামীতে জেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে এবং সোনালি আঁশের সুদিন ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নড়াইল জেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ভাটিয়াপাড়া বাজারটি নৌ, রেল ও সড়কপথে সংযুক্ত থাকায় তিন জেলার পাটই এখানে বেচাকেনা হয়। ভাটিয়াপাড়া পাট ও ভুষিমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিয়ামূল হক শরীফ জানান, হাটের দিনগুলোতে (শুক্রবার ও সোমবার) ১২০টি আড়তে ভোর থেকে সকাল ১০টার মধ্যে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার মণ পাট লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে অনুকূল আবহাওয়াও ভালো ফলন ও পাট পচানোর (জাগ দেওয়া) ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে জেলায় মোট ১,৩৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চাষিদের সহজে পাট পচাতে দারুণ সহায়তা করেছে।

কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুরের কৃষক মফিজুর রহমান শেখ ও নড়াইলের লোহাগড়া থেকে আসা কৃষক পান্নু শেখ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টি মেলায় পাট জাগ দিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। খরচ পুষিয়ে মণপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি লাভ হওয়ায় তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আগামীতে পাটের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

   

About

Popular Links

x